পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ-শিক্ষক ও কর্মচারীদের সাথে জঘন্য ও অমানবিক আচরণের অভিযোগে অত্র কলেজের শিক্ষার্থী ও জেলা ছাত্র লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক সহ ৬ ছাত্রকে বাধ্যতামূলক ছাড়পত্র কেন দেয়া হবেনা সে জন্য কারন দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। যাদেরকে কারন দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে তারা সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। গত ১২ অক্টোবর কলেজ অধ্যক্ষ গনেশ চন্দ্র অধিকারী এ কারন দর্শানোর নোটিশে স্বাক্ষর করার পর তা ওই শিক্ষার্থীদের ঠিকানায় ডাক যোগে পাঠানো হয়েছে বলে জানাগেছে। সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্র ও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির বক্তব্য অধ্যক্ষ সহ কয়েক শিক্ষকের নানা অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাদের উপর এই খড়গ।যাদেরকে নোটিশ দেয়া হয়েছে তারা হলেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সদ্য বিলুপ্ত সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি ফয়সাল মাহাবুব শুভ (ইংরেজী ৪র্থ বর্ষ), একই কলেজের ছাত্র জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর মুজিব অভি (ডিগ্রি ১ম বর্ষ), সদ্য বিলুপ্ত সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্র সংসদের অভ্যন-রীন ক্রিড়া সম্পাদক মামুন সিকদার (রাষ্ট্রবিজ্ঞান ৩য় বর্ষ), সদ্য বিলুপ্ত সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্র সংসদের সমাজ কল্যান সম্পাদক আবু হানিফ (ইসলামের ইতিহাস ২য় বর্ষ), একাদশ শ্রেনী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাইমিনুল ইসলাম (একাদশ মানবিক), কলেজ ছাত্রলীগের সদস্য পার্থ সাহা (রাষ্ট্র বিজ্ঞান ১ম বর্ষ)।
ফয়সাল মাহবুব শুভকে দেয়া অধ্যক্ষ গনেশ চন্দ্র অধিকারী স্বাক্ষরিত (স্মারক নং-সঃসোঃক/৪১৮/২০১১তাং-১২/১০/২০১১) নোটিশ থেকে জানাযায় গত ৪ মে ব্যবস’াপনা বিভাগে ২য় বর্ষ সম্মান পরীক্ষা ২০০৯ এর মৌখিক পরীক্ষায় বহিঃ পরীক্ষকের (জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ের প্রতিনিধি) সাথে তার (ফয়সাল মাহবুব শুভ) অসদাচারনের জন্য অত্র কলেজের সুনাম নষ্ট হওয়ায় তাকে কারন দর্শানোর নোটিশ (স্মারক নং- ২০১/২০১১ তারিখঃ ১১/০৫/২০১১) দেয়া হয়।
যার জবাবে সে (ফয়সাল মাহবুব শুভ) লিখিতভাবে জানান, ভবিষ্যতে কোন শিক্ষকের সাথে অসদাচরণ করলে তার বিরুদ্ধে যে শাসি-মূলক ব্যবস’া গ্রহন করা হবে তা সে মেনে নিতে বাধ্য থাকবে। অধ্যক্ষ গনেশ চন্দ্র অধিকারী বলেন, তারপরও ফয়সাল মাহবুব শুভ তার আচরনের কোন পরিবর্তন করেনি। বরং বিভিন্ন সময়ে কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীদের সাথে দুর্ব্যবহার করে আসছে।
অধ্যক্ষ জানান, গত ২০ সেপ্টেম্বর তার (ফয়সাল মাহাবুব শুভ) নেতৃত্বে প্রায় ৫০থেকে ৬০ জন ছাত্র-অছাত্র সন্ত্রাসী আমার (অধ্যক্ষের) কক্ষে ঢুকে ভাংচুর চালায় এবং আমাকে (অধ্যক্ষ) প্রাণনাশের ভয় ভীতি দেখিয়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে ১৩ সেপ্টেম্বর অযোগ্যতার কারনে ভেঙ্গে দেয়া ছাত্র সংসদ (২০১০-২০১১) পুনর্বহালে তার (ফয়সাল মাহবুব শুভ) তৈরি করা নোটিশে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। এ ছাড়া আমার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। শুধু তাই নয় সে (ফয়সাল মাহাবুব শুভ) জোরপূর্বক ছাত্র সংসদের কয়েকটি দপ্তরের নামে চেকে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। শিক্ষক পরিষদের জরুরি সভা চলাকালীন সে (ফয়সাল মাহবুব শুভ) তার দলবল নিয়ে সভাকক্ষে ঢুকে আমাকে (অধ্যক্ষ) সহ শিক্ষকদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। তাই আমি অনন্যোপায় হয়ে নিজের জীবন রক্ষার্থে এবং সরকারি সম্পদ বিনষ্ট করার কারনে প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আমি অধ্যক্ষ হিসাবে পিরোজপুর সদর থানায় মামলা করতে বাধ্য হই (মামলা নং-১৮ তারিখঃ ২০/০৯/২০১১)।
অধ্যক্ষ বলেন, ঢাকায় অধ্যয়নরত আমার পুত্র এবং কন্যাকে মুঠোফোনে মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দেয় হয়। এতে ভিতসন্ত্রস- হয়ে তারা (আমার পুত্র কন্যা) ঢাকা লালবাগ থানায় প্রাপকের (ফয়সাল মাহবুব শুভ) বিরুদ্ধে জিডি করে। (যার নং- ৮৩০ তারিখঃ ২৩/০৯/২০১১)।
ফয়সাল মাহাবুব শুভকে পাঠানো নোটিশ থেকে আরও জানাযায় অধ্যক্ষকে মামলা তুলে নেয়া এবং ছাত্র সংসদ পুনর্বহাল সহ সবকিছু মিটিয়ে ফেলার জন্য মুঠোফোনে প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। তাই আমিও (অধ্যক্ষ) পিরোজপুর সদর থানায় জিডি করতে বাধ্য হই। (যার নং- ৯৯৯ তারিখঃ ২৩/০৯/২০১১)। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ছাত্র অধ্যক্ষসহ শিক্ষক ও কর্মচারীবৃন্দের সাথে এ ধরনের জঘন্য অমানবিক অ-ছাত্র সুলভ আচরন এবং প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি সাধন করতে পারে তা নজীর বিহীন। তাই কেন তাকে অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বাধ্যতামূলক ছাড়পত্র প্রদান করা হবে না তার লিখিত জবাব নোটিশ ইস্যূর ৩ দিনের মধ্যে নিম্নস্বাক্ষরকারীর বরাবর প্রদান করার জন্য বলা হলো।
তানভীর মুজিব অভিকে দেয়া নোটিশে অধ্যক্ষ উল্লেখ করেছেন ২০ সেপ্টেম্বর ছাত্র সংসদের ভিপি এবং জিএস এর নেতৃত্বে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন ছাত্র-অছাত্র সন্ত্রাসী আমার (অধ্যক্ষ) কক্ষে ঢুকে ভাংচুড় চালায় এবং আমাকে প্রাণ নাশের ভয় ভীতি দেখিয়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে ১৩ সেপ্টেম্বর অযোগ্যতার কারণে ভেঙ্গে দেয়া ছাত্র সংসদ পুনর্বহালের তার (তানভীর মুজিব অভির)তৈরি করা নোটিশে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। শুধু তাই নয় জোর পূর্বক ছাত্র সংসদের কয়েকটি দপ্তরের নামে টাকার চেকে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। শিক্ষক পরিষদের জরুরী সভা চলাকালীন সে তার দলবল নিয়ে সভা কক্ষে ঢুকে আমাকে সহ শিক্ষবৃন্দকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। উক্ত ঘটনা চলার সময় প্রাপক (তানভীর মুজিব অভি) বারান্দায় অবস’ান করে উচ্ছঙ্খল ছাত্র-অছাত্রদের অন্যায় অবৈধ কাজে উৎসাহ যোগায়। উক্ত সন্ত্রাসী কর্মকান্ড এবং সরকারি সম্পত্তি বিনষ্ট করার কারনে প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আমি অধ্যক্ষ হিসেবে পিরোজপুর সদর থানায় মামলা করি। (যার নং- ১৮, তরিখঃ ২০/০৯/২০১১)।
পরবর্তীতে প্রাপক (তানভীর মুজিব অভি) ঢাকায় অধ্যয়নরত আমার পুত্র এবং কন্যাকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকি দেয়। যার কারনে ভিত হয়ে তারা ঢাকা লালবাগ থানায় প্রাপকের বিরূদ্ধে জিডি করে। (যার নং- ৮৩০ তারিখঃ ২৩/০৯/২০১১)।
মামুন সিকদারের বিরুদ্ধে দেয়া কারন দর্শানো নোটিশে অধ্যক্ষ উল্লেখ করেছেন ভিপি জিএস এবং প্রাপক (মামুন সিকদার ) নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জন ছাত্র অ-ছাত্র সন্ত্রাসী আমার কক্ষে জোর পূর্বক প্রবেশ করে আমাকে জিম্মি করে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ১৩ সেপ্টেম্বর অযোগ্যতার কারণে ভেঙ্গে দেয়া ছাত্র সংসদ প্রনর্বহালে তাদের তৈরী করা নেটিশে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। তারই সাথে বাতিলকৃত ছাত্র সংসদের অভ্যন-রীণ ক্রিড়া দপ্তরের নামে ব্যাংক চেকে অবৈধ স্বাক্ষর করিয়ে নেয় এবং ১৪ হাজার টাকা উত্তোলন করে যা অদ্যাবধি ফেরত প্রদান করেনি। (অগ্রণী ব্যাংক, পিরোজপুর শাখা, হিসাব নং ৯৮৭৫, চেক নং ঙওঠ- ৬৭৩০৭৭৬) তারিখ ২০সেপ্টেম্বর।
আবু হানিফের বিরুদ্ধে দেয়া কারন দর্শানো নোটিশে অধ্যক্ষ উল্লেখ করেছেন ভিপি জিএস এবং প্রাপক (আবু হানিফ ) নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জন ছাত্র অ-ছাত্র সন্ত্রাসী আমার কক্ষে জোর পূর্বক প্রবেশ করে আমাকে জিম্মি করে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ১৩ সেপ্টেম্বর অযোগ্যতার কারণে ভেঙ্গে দেয়া ছাত্র সংসদ প্রনর্বহালে তাদের তৈরী করা নেটিশে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। তারই সাথে বাতিলকৃত ছাত্র সংসদের অভ্যন-রীণ ক্রিড়া দপ্তরের নামে ব্যাংক চেকে অবৈধ স্বাক্ষর করিয়ে নেয় এবং ১০ হাজার টাকা উত্তোলন করে যা অদ্যাবধি ফেরত প্রদান করেনি। (অগ্রণী ব্যাংক, পিরোজপুর শাখা, হিসাব নং ৯৮৭৫, চেক নং ঙওঠ- ৬৭৩০৭৭৭) তারিখ ২০সেপ্টেম্বর। নোটিশ দেয়া অন্য দু’জনের বিরুদ্ধেও প্রায় একই ধরণের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে কলেজ ছাত্র ও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল মাহাবুব শুভর সাথে সোমবার বিকালে কথা হলে সে জানায়, শুনেছি আমাদেরকে কেন বাধ্যতামূলক ছাড়পত্র দেয়া হবে না সে রকম একটি নোটিশ ডাক যোগে আমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে, তবে আমরা তা পাইনি। বহিঃপরীক্ষকের (জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ের প্রতিনিধি) সাথে অসাদচারণের বিষয়টি নিয়ে আমি লিখিত আকারে ক্ষমা চেয়েছি এবং পেয়েছি। এরপর তিনি বলেন, ২০১০-২০১১ শিক্ষাবর্ষে সম্মান ১ম বর্ষে ভর্তির সময় ব্যবস’াপনা ফি বাবদ ১শত টাকা করে নিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি আমরা প্রতিবাদ করায় কয়েক শিক্ষক আমাদের উপর ক্ষুব্ধ হয়। অধ্যক্ষ যাদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন তারা কেউ তার কাছে চাঁদা চায়নি। আমরা কোন শিক্ষক কর্মচারীদের সাথে খারপ ব্যবহার করিনি।
ফয়সাল মাহাবুব শুভ বলেন, এক মাস আগে কলেজের বিভিন্ন জিনিসপত্র কেনার জন্য ২লাখ ৮০ হাজার টাকার দরপত্র আহবান করা হয়। অধ্যক্ষ গনেশ চন্দ্র অধিকারী ও দরপত্র কমিটির আহবায়ক সদানন্দ গাইন মাত্র ৮০ হাজার মালামাল কিনেছেন। ফয়সাল মাহাবুব শুভ’র দাবী বিষয়টি তদন- হলে বেরিয়ে আসবে। সবশেষে তিনি বলেন, কলেজ ছাত্র সংসদ ভেঙে দেয়ার বিষয় তিনটি সতর্কীকরণ নোটিশ দিতে হয় কিন’ অধ্যক্ষ সেটা করেন নি। এরপর ফয়সাল মাহাবুব শুভ বলেন, ১৩ সেপ্টেম্বর অধ্যক্ষ কলেজ ছাত্র সংসদ ভেঙে দেন আবার পরে তার পূর্নবহাল করেন। ২০সেপ্টেম্বর আবার তা ভেঙে দেন। এরপরে আমাদের নামে চাঁদাবাজির মামলা দেন। ফয়সাল মাহাবুব শুভ’র দাবী এ মামলাটি মিথ্যা। এরপর সে বলেন, কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচনের জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর তফসিল ঘোষনা করেন। আমাদের বিরুদ্ধে করা মামলায় আমরা জামিন পাওয়ার পর অধ্যক্ষ সে নির্বাচনী তফসিল স’গিত ঘোষনা করে। ফয়সাল মাহাবুব শুভ’র বক্তব্য, অধ্যক্ষ আমারদের ছাত্রত্ব বাতিল করে কলেজ সংসদ নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে চান।
কলেজ ছাত্র ও জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভির মুজিব অভি বলেন, আমি সহ অন্যরা অধ্যক্ষ বা কলেজের শিক্ষকদের সাথে কখনও খারাপ ব্যবহার করিনি। অধ্যক্ষের ছেলে মেয়ে কারা তাদেরকে আমরা চিনিও না। কোথায় থাকে কি করে তা আমরা জানিও না।
এরপরে কলেজের শিক্ষক পরিষদের সদস্য সচিব, ইংরেজি বিভাগের প্রধান সদানন্দ গাইনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আগে ব্যবস’াপনা ফি নেয়া হত ঠিক। তবে বর্তমান অধ্যক্ষ গনেশ চন্দ্র অধিকারী প্রায় এক বছর আগে এ কলেজে যোগদানের পর থেকে ব্যবস’াপনা ফি আদায় বন্ধ করেছেন। এরপর তিনি বলেন, আমি দরপত্র কমিটির আহবায়ক ছিলাম। ২লাখ ৮০হাজার টাকার মালামাল ক্রয়ের দরপত্র আহবান করার পর তা সঠিক ভাবে কলেজের ভান্ডারে জমাও হয়েছে। কোন কিছুতে কমতি করা হয়নি।
Home / প্রতিবেদন / শিক্ষক-কর্মচারীদের সাথে জঘন্য-অমানবিক ও অছাত্র সুলভ আচরণের অভিযোগ পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদক সহ ৬ ছাত্রকে কারন দর্শানোর নোটিশ
আরও পড়ুন...
বে-সরকারী সংস্থার উদ্যোগে নওগাঁয় স্বামী কর্তৃক অগ্নিদগ্ধ গৃহবধু সম্পা এখন সুস্থ্য
এনবিএন ডেক্স : স্বামী কর্তৃক অগ্নিদগ্ধ গৃহবধু সম্পাকে দীর্ঘদিন ঢাকায় বার্ণ হাসপাতালে চিকিৎসার পর সুস্থ্য …