22 Chaitro 1431 বঙ্গাব্দ শনিবার ৫ এপ্রিল ২০২৫
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ »
Home / প্রতিবেদন / বঙ্গবন্ধু সেতুতে ট্রাক চালকদের হয়রানির অভিযোগ

বঙ্গবন্ধু সেতুতে ট্রাক চালকদের হয়রানির অভিযোগ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : যমুনা নদীর উপর নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতুর উভয় পাড়ে চালকদের হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেতুর ওজন, স্টেশন ও স্টক ইয়ার্ডে রক্ষণাবেক্ষণ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নিয়োজিত শ্রমিক ও কর্মচারীরা অতিরিক্ত ওজনের পণ্যবাহী ট্রাক চালকদের জিম্মি করে লোড আনলোডের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শ্রমিক ও কর্মচারীদের গালমন্দ ও জুলুম নির্যাতন সহ্য করে এমনিতেই এসব ট্রাক চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়, তার ওপর শ্রমিকদের দু’গ্রুপের দ্বন্দ্বে প্রায় অর্ধশত শ্রমিক বেশ কিছুদিন ধরে কাজে অনিয়মিত হওয়ায় সমস্যা বেড়েই চলেছে। শ্রমিক স্বল্পতার অযুহাতে বর্তমানে কর্মরত শ্রমিকরা চালকদের বেকায়দায় ফেলে অতিরিক্ত লোড আনলোড চার্জ আদায় করলেও দেখার কেউ নেই। প্রসঙ্গতঃ ১৯৯৮ সালের ২৩ জুন সেতু উদ্বোধনের পর থেকেই এ ধরনের সমস্যা থাকলে গত ঈদের আগ থেকে প্রকট আকার ধারণ করেছে। চালকদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, সেতু পারাপারের আগে মূলতঃ তারা হয়রানি হন ওজন স্টেশনগুলোর স্কেলম্যানদের দ্বারা। স্কেলে ওজন করতে ট্রাক ঢুকলেই পেছনের চাকার ওপর অতিরিক্ত ১ টন বা আধাটন পণ্য ভারসাম্যের অযুহাতে স্কেলম্যানরা সেগুলো স্টকইয়ার্ডে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে শ্রমিকরা থেকে ৫শ’ কেজি থেকে ১ টন মালামাল পেছনের চাকার ওপর থেকে সামনে দিয়ে চালকদের কাছ জোরপূর্বক ১ হাজার থেকে ১৫শ’ টাকা আদায় করে থাকে। জরিমানা ও দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার ভয়ে অসহায় চালকরা বাধ্য হয়ে ৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে ইয়ার্ডে ঢুকে শ্রমিকদের দাবীকৃত গলাকাটা মজুরী দিয়ে মালপত্র ভারসাম্য রক্ষা করে ওজন স্টেশন পার হতে হয়। সেতু পার হয়ে অপর প্রান্তে গিয়েও আবারো শ্রমিকদের দারস’ হয়ে মালপত্র পূর্বের অবস’ায় নিয়ে শেষ পর্যন- গন-ব্যস’লের দিকে যাত্রা করতে হয়। এ ধরনের প্রক্রিয়াই বর্তমানে চলমান রয়েছে। নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলা সদরের রসুলপুর গ্রামের ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-১৬-৪০০৫) চালক সফিকুল ইসলাম বগুড়া থেকে মাল নিয়ে ঢাকার যাত্রবাড়ী যাবার পথে বলেন, বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড়ে সেতু কর্তৃপক্ষের স্টকইয়ার্ডে চলছে শ্রমিকদের ডাকাতি। পশ্চিমপাড়ের ওজন স্কেল মাঝে মধ্যেই বিকল থাকে। দু’টন মাল বেশী নিয়েও সেতু পারাপারের সময় ধরা পড়ে না। আবার সঠিক পরিমাণ মাল নিয়ে যাবার সময় স্কেলম্যানরা আটকে দেন। সামনের ও পেছনের চাকার ওপর ওজন ভারসাম্যের জন্য স্কেলম্যানরা ট্রাক আটকে স্টকইয়ার্ডে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে শ্রমিকদের দেড় থেকে দু’হাজার টাকা দিয়ে পেছনের মাল সামনে নিয়ে তারপর সেতু পার হতে হয়। সেতু পার হয়ে আবারো হাজার ১২শ’ টাকা খরচ করে ট্রাকের মালপত্র আগের অবস’ায় ফিরে নিতে হয়। ট্রাকচালক শহিদুল বেনাপোল থেকে তুলা নিয়ে নারায়নগঞ্জে যাবার পথে জানান, পেছনের চাকায় মাত্রাতিরিক্ত ৮শ’ কেজি ওজনের জন্য তার ট্রাকটি স্কেলম্যানরা আটকে দেন। পরে ১ হাজার টাকা শ্রমিকদের দিয়ে তুলা ট্রাকের পেছনের চাকার ওপর থেকে সামনের চাকার ওপর নিয়ে পরে তিনি সেতু পার হন। ওপার পৌঁছেও আবার সমপরিমাণ টাকা শ্রমিকদের দিয়ে তুলা সাজিয়ে নিতে হয়েছে। জানা যায়, শ্রমিকদের দ্বারা শুধু হয়রানিই নয়, সেতুর উভয়পাড়ে ৬/৭ ঘণ্টা সময় বেশী লাগায় পুরো দিনটাই তার নষ্ট হয়ে যায় বলেও তিনি জানান। ট্রাক চালক বাদশা ও ছাইদুলের মত এ ধরনের অভিযোগ অনেক চালকেরই। প্রতিদিনই ওজন স্কেল ও স্টকইয়ার্ডের লোকজনদের দ্বারা নির্যাতিত হওয়ার পরেও প্রতিবাদ করতে কেউই কোনো সাহস পান না। পশ্চিম পাড়ের স্টকইয়ার্ডে কর্মরত টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতির লেবার সর্দার শরিফ তালুকদার চালকদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চালকরা ট্রাকের সামনে ও পেছনের চাকার ওপর মালপত্র ঠিকমত ভারসাম্য না করার কারণে স্কেলে আটকে যায়। পরে আমরা টন প্রতি ২/৩শ’ টাকা পারিশ্রমিক নিয়ে তাদের মালপত্র পেছন থেকে সামনে নিয়ে স্কেল পারাপারে সাহায্য করি। স্টকইয়ার্ড সুপারভাইজার টাঙ্গাইল জেলার ভূয়াপুরের আবু তাহের বলেন, সেতু কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ট্রাক প্রতি ৫০ টাকা ভাড়া এবং আইন অমান্য করে সেতু পার হলে ৩শ’ টাকা জরিমানা নেয়া হয়। বঙ্গবন্ধু সেতু রক্ষণাবেক্ষণ ও টোল সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানের (এমসিসিসি, এসইএল ও ইউডিসিজেভি) এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, একদিকে সেতুর উভয় পাড়ের স্কেল ম্যান ও কম্পিউটার অপারেটররা যথেষ্ট দক্ষ নন, অন্যদিকে স্টকইয়ার্ডের লেবাররাও নিয়ন্ত্রণের বাইরে। লোড আনলোডের নামে ট্রাক চালকরা শ্রমিকদের কাছে জিম্মি। ওজন স্কেলটিও প্রায়ই বিকল থাকে। ঐ প্রতিষ্ঠানের ট্রাফিক ও নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যবস’াপক মেজর (অবঃ) দেওয়ান তারেক বিন রশীদ জানান, শ্রমিকরা একচেটিয়া চালকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত লোড আনলোড চার্জ আদায় করার খবর পেয়ে বেশ কিছু নতুন শ্রমিক নিয়োগ করা হয়। আগামীতে হয়তো এর সমাধান হয়ে যাবে। একই প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ মোজাম্মেল হক জানান, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই দু’হুইলের ট্রাক মালপত্রসহ ২৪ টন, খাদ্যদ্রব্যের জন্য সাড়ে ২৪ টন এবং থ্রি হুইলের ক্ষেত্রে  ট্রাকসহ ৩২ টন মালপত্র নিয়ে সেতু পারাপারে অনুমতিপ্রাপ্ত। অনেক সময় ট্রাকের সামনে ও পেছনের চাকায় ওজন ভারসাম্য না হলে সেগুলো স্টকইয়ার্ডে নিয়ে লোড আনলোড করে ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়। কিন-ু অতিরিক্ত ওজন হলে সেগুলো অন্য ট্রাকে নিয়ে সেতু পার হবার পর ওপার থেকে চালকরা আবার পূর্বের ন্যায় সাজিয়ে নির্দিষ্ট গন-ব্যস’লে নিয়ে যায়। স্টকইয়ার্ডের পার্কিং চার্জ ও জনবল এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচে প্রতি ট্রাক থেকে ৫০ টাকা ভাড়া নেয়া হয়। লোড আনলোডের বিষয়ে শ্রমিকেরা যে টাকা নেয়, তা আমাদের সাথে সম্পর্কিত নয়। তা শ্রমিকদের ব্যক্তিগত।

আরও পড়ুন...

বে-সরকারী সংস্থার উদ্যোগে নওগাঁয় স্বামী কর্তৃক অগ্নিদগ্ধ গৃহবধু সম্পা এখন সুস্থ্য

এনবিএন ডেক্স : স্বামী কর্তৃক অগ্নিদগ্ধ গৃহবধু সম্পাকে দীর্ঘদিন ঢাকায় বার্ণ হাসপাতালে চিকিৎসার পর সুস্থ্য …