এনবিএন ডেক্স : সকাল অনুমান নয়টা। বাড়ির দরজায় মহিলা কন্ঠে শোনা গেলো ডিম নিবেন, দেশী মুরগির ডিম। ঘর থেকে বেরিয়েই চোখে পড়ল হাতে একটি ডিমের পাত্র দাঁড়িয়ে আছে মধ্যবয়সের এক মহিলা। নাম তার জাহানারা। নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর পৌর সদরের চকজয়রাম গ্রামের জাহানারা বিয়ের পর সংসারের হাল ধরতে ননদ, জা সহ ৪জনকে সাথে নিয়ে উপজেলার হাটশাওলিতে ননদের বাড়িতে গড়ে তুলেছেন দেশী মুরগীর খামার। জাহানারার দায়িত্ব হলো গ্রামে গ্রামে ঘুরে খামারের মুরগির ডিম বিক্রয় করা। গ্রামে গ্রামে ও নজিপুর পৌর মহল্লায় মহল্লায় ডিম বিক্রয় করে তিনি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। ডিম বিক্রয়ের লাভ ও ফার্মের আয়ে ঘুরিয়ে দিয়েছে তার ভাগ্যের চাকা। জাহানারা বেগম সাফল্যের কাহিনী বর্ণনা করতে গিয়ে জানান, বিবাহের পর তার স্বামী কিভাবে সংসার চালাবেন তা নিয়ে যখন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তখন জা মেরিনা, রহিমা ও ননদ নাছিমার সাথে পরামর্শ করে প্রত্যেকে দশ হাজার টাকা করে একত্রে জমা করে সেই টাকা দিয়ে সাপাহারে ৫শত দেশী মুরগির বাচ্ছা নিয়ে খামার গড়ে তোলেন। আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে তাদের খামারের পরিধি। বর্তমানে তাদের খামারে ১ হাজার ৬ শতটি দেশী মুরগী আছে। এ থেকে তারা প্রতিদিন ছয় থেকে সতশ’টি ডিম পাচ্ছেন। এছাড়াও আরো ১ হাজার মুরগী আছে সে গুলো এক মাসের মধ্যে ডিম দিতে শুরু করবে। জাহানারা আরো জানায়, তাদের এই যৌথ খামারের মাধ্যমে তার সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। একটি বাড়ি তৈরী করেছেন, ১ বিঘা জমি বন্ধকী নিয়েছেন। ঘরের আসবাবপত্র করেছেন। তবে তিনি জানান, মুরগির খাবারের দাম বেড়েছে তাই লাভের পরিমান কমে গেছে। গ্রামে গ্রামে মুরগির ডিম বিক্রয় করায় জাহানারা বেগমকে এলাকায় লোকজন ডিম আপা বলে ডেকে থাকেন। বাজার হতে অপেক্ষাকৃত কম দামে ডিম পাওয়ায় মানুষ প্রয়োজনে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তার নিকট থেকে ডিম ক্রয় করে থাকেন এবং অনেকেই বাড়ি গিয়ে ডিম নিয়ে আসছেন বলেও তিনি জানান। চেষ্টা, উদ্যম ও উদ্যোগ থাকলে প্রতিবন্ধকতা ও দারিদ্রতাকে দূর করা যায় তার জলন্ত উদাহারণ জাহানারা বেগম।
আরও পড়ুন...
বে-সরকারী সংস্থার উদ্যোগে নওগাঁয় স্বামী কর্তৃক অগ্নিদগ্ধ গৃহবধু সম্পা এখন সুস্থ্য
এনবিএন ডেক্স : স্বামী কর্তৃক অগ্নিদগ্ধ গৃহবধু সম্পাকে দীর্ঘদিন ঢাকায় বার্ণ হাসপাতালে চিকিৎসার পর সুস্থ্য …