31 Joishtho 1431 বঙ্গাব্দ শনিবার ১৫ জুন ২০২৪
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ »
Home / বিনোদন / একই আড্ডায় তারা তিনজন…

একই আড্ডায় তারা তিনজন…

ধ্রুব ,কুমকুম আর মুনমুনের গল্প নিয়ে রুদ্র মাহফুজের রচনায় ও সাখাওয়াত হোসেন মানিকের পরিচালনায় নির্মিত হয়েছে নাটক ‘অপরাহ্ন’। নাটকে ধ্রুব চরিত্রে অভিনয় করেছেন পার্থ বড়ুয়া। কুমকুম ও মুনমুন চরিত্রে অভিনয় করেছেন তারিন ও উর্মিলা শ্রাবন্তী কর। ভার্সেটাইল মিডিয়া প্রযোজিত এ নাটকরি শুটিং লোকেশন থেকে ঘুরে এসে বিস্তারিত লিখেছেন অভি মঈনুদ্দীন।
শুটিং-এর আগেরদিনই পার্থ বড়ুয়া কক্সবাজারে পেঁৗছেছেন। কারণ পরিচালক পার্থ বুড়য়ার কিছু কাজ একটু আগেই সুবিধামতো শেষ করে নিবেন। ইচ্ছে করলেই পার্থ বড়ুয়া পরেরদিন যেতে পারতেন। কিন্তু তিনি শিল্পী সুলভ আচরণের পরিচয় দিয়ে পরিচালকের সঙ্গেই আকাশে উড়াল দিয়ে কক্সবাজারে পৌঁছান। বেশ কিছুটা সময় বিশ্রামের পার্থ বড়ুয়াকে নিয়ে পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন মানিক তার ‘অপরাহ্ন’ নাটকের কাজ শুরু করেন। ঘটনাক্রমে আমিও ছিলাম এই ইউনিটের সঙ্গে। খুব ভালো গল্প মনে হচ্ছে দাদা , লোভ সামলাতে না পেরে একেবারে কক্সবাজারে চলে এলেন শুটিং করতে! ‘ঠিক তাই, রুদ্র গল্পটি দারুন লিখেছে। একজন সঙ্গীত শিল্পী আমি। আমি আগেও নাটকে কাজ করেছি। কিন্তু নিজেই একজন সঙ্গীতশিল্পীর ভূমিকায় কখনো অভিনয় করিনি। মাত্রতো শুরু হলো কাজ। বেশ ভালোলাগছে। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়। ‘ সেদিন পার্থ দা কে একা পেয়ে অনেক কিছুই জেনে নেবার চেষ্টা করলাম। সে বিষয়গুলোই পাঠকের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছ মাত্র। পার্থ বড়ুয়া। আগে একটি পরিচয়েই বেশি পরিচিত ছিলেন। এখন তিনি দুটি বিশেষ পরিচয়ে পরিচিত। একজন কন্ঠশিল্পী, একজন অভিনেতা। গানের চেয়ে এখন অভিনয়েই বেশি ব্যস্ত তিনি। নাটকের ব্যস্ততা কেমন লাগছে? অভিনয়টা সত্যি বলতে কী শখের বশেই করা। আমি কিন্তু এখানে খুব বেশি নিয়মিত না। এখন ঈদ আসছে বলে কাজের চাপটা একটু বেশি। এই চাপটা আপাতত নিয়েই কাজ করছি। তবে গরমের কারণে বেশি কিছু বাতিলও করেছি। এতো কষ্ট সহ্য হয়না। গানের সঙ্গে আপনার সখ্যতার কথা জানতে চাচ্ছিলাম… আমার জন্ম চট্টগ্রামে। আমার মা শিক্ষক ছিলেন। তো ছোটবেলা থেকেই ছিলো গানের সাথে আমার একধরনের সখ্যতা ছিলো। স্কুলের অনুষ্ঠানে গান গাইতাম আমি নিয়মিত। নাসিরাবাদ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় , চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কেটেছে আমার শিক্ষা জীবন। শিক্ষা জীবনের দিনগুলো ভীষণ মিস করি। আপনার উল্লেখযোগ্য এ্যালবাম এবং নাটকের কথা জানতে চাচ্ছিলাম…এ্যালবামের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে এ এমন পরিচয়, আজ দিন কাটুক গানে, অসময়ের গান, মুখরিত জীবন, তারার উঠানে , টু-লেট, ঝুট ঝামেলা, জ্যাম ইত্যাদি। নাটকের কথা বলতে গেলে আসে ‘এফএনএফ’, শেষ দুইদিন, জার্নি বাই লাভ, লাভ ইউ ক্রিস্টিনা, পিও বক্স, শহরতলীর আলো , সিনেমা, সাদা আলো সাদা কালো, তোমায় ভেবে লেখা ইত্যাদি।’ সেদিনের মতো চলে এলাম আমি। পরের দিন তারিন ও উর্মিলাকে সঙ্গে নিয়ে মানিক কাজ শুরু করেন বিকেলে কক্সবাজারের সার্কিট হাউজে। তারিন আমাকে দেখা মাত্রই শুভেচ্ছা জানালেন। সেইসাথে পার্থ বুড়য়া বলেন , ‘ আপনি জানেন, তারিনের সঙ্গে অভিনয় করতে গেলে আমি রীতিমতো একটু ভীতই থাকি। কারণ ওর সঙ্গে অভিনয়ে পেরে উঠাটা একটু কঠিনই বৈকি। ‘ তারিন বলেন , ‘ দাদা একটু বাড়িয়েই বললেন। বিষয়টা এমন নয়। আসলে দাদা গানের মানুষ। অভিনয়টা আমি শুধু বুঝিয়ে দেবার চেষ্টা করি। (হাসতে হাসতে) ..তবে দাদা স্ক্রিপ্ট মুখস্থ না করে ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করেন। আমি এটা মেনে নিতে পারিনা। তাই আমার সাথে কাজ করতে গেলে কিছুটা কষ্ট হয়। ‘ উর্মিলার যেন ভীষণ সৌভাগ্য পার্থ বুড়য়া কিংবা তারিনের সঙ্গে প্রথম কাজ করতে পেরে। দু’জনেরই ভীষণ ভক্ত উর্মিলা। রুদ্রর লেখা এই নাটকটি যেন তার জীবনের স্মরণীয় একটি নাটক। কেন ? ‘কেন স্মরণীয় হবেনা। পার্থ দা’র ভীষণ ভক্ত আমি। অন্যদিকে আমার প্রিয় অভিনেত্রী তারিন আপু। তিনি আমার বিচারকও ছিলেন (লাক্স চ্যানেল আই প্রতিযোগিতায়)। তো দু’জন প্রিয় মানুষের সঙ্গে একই নাটকে কাজ করতে পারটা সৌভাগ্যের নয়! পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন মানিক নিজেও এই নাটকের কাস্টিং নিয়ে ভীষণ তৃপ্ত। খুব বেশি নাটক নির্মাণ করেননি তিনি। তবে নিজের মেধা দিয়ে মানিক এরইমধ্যে একটি অবস্থান তৈরী করে নিয়েছেন নাট্যাঙ্গনে। পার্থ বড়ুয়া কিংবা তারিন দু’জনেই মানিকের গুছানো কাজে তৃপ্ত। গল্পে গল্পে তারিন জানান কক্সবাজারে আসার আগে দুটি ভালো কাজ করে এসেছেন তিনি। একটি তারিকুল ইসলামের ‘বেওয়ারিশ মানুষ’ ও অন্যটি নিয়াজ মাহবুবের পরিচালনায় ধারাবাহিক নাটক ‘কালো মখমল’। দুটি নাটকই প্রচারের অপেক্ষায় আছে। তারিন আরো জানান তার প্রথম একক এ্যালবাম আকাশ দেবো কাকে ‘ মাকে উৎসর্গ করেছিলেন। এবার তিনি দ্বিতীয় একক এ্যালবামের কাজ শুরু করেছেন তার বাবাবে উৎসর্গ করে। জুলফিকার রাসেল এরইমধ্যে বাবাকে নিয়ে লেখা গানটি তারিনকে দিয়েছেন। এটির সুর সঙ্গীত পরিচালনা করবেন ইবরার টিপু। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তারিন তার নুতন একক এ্যালবামের গানে কন্ঠ দিবেন। এদিকে দ্বিতীয়বারের মতো তারিন নাটকের সূচনা সঙ্গীতে কন্ঠ দিয়েছেন। নাটকের নাম ‘কালো মখমল’। এই নাটকের সূচনা সঙ্গীতে কন্ঠ দিয়েছেন তিনি। এর আগে তারিন চয়নিকা চৌধুরীর পরিচালনায় ধারাবাহিক নাটক ‘স্বপ্নগুলো জোনাক পোকার মতো’ নাটকে সূচনা সঙ্গীতে কন্ঠ দিয়েছিলেন। এই নাটকটিও প্রচারের অপেক্ষায় রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আপনার ভালোলাগার একটি নাটকের কথা জানতে চাচ্ছিলাম। জবাবে তারিন বলেন , ‘ সত্যি বলতে কী স্ক্রিপ্ট পছন্দ না হলেতো আমি নাটকে অভিনয় করিনা। তাই যে নাটকেই অভিনয় করিনা কেন সবই ভালো। মন্দ নয়। রুদ্রর লেখা নাটকটিও বেশ ভালোলেগেছে।
পাশাপাশি জুবায়ের ইবনে বকরেরও একটি নাটকে কাজ করেছি। ‘ এদিকে স্বাধীনতা দিবসে এটিএন বাংলায় প্রচারিত শান্তা রহমান পরিচালিত ‘অনুচ্ছেদ’৭১’ নাটকটিও বেশ ভালো ছিলো। তবে বছরের প্রথমদিকে নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুলের নির্দেশনায় ‘গল্পটি সত্যি’ নাটকের অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছি আমি। এ নাটকে আমার বিপরীতে ছিলেন আফজাল হোসেন। ‘ উর্মিলা শ্রাবন্তী কর অভিনীত এজাজ মুন্না পরিচালিত ‘যোগাযোগ গোলযোগ’ ধারাবাহিক নাটকটি এনটিভিতে নিয়মিতভাবে প্রচার হচ্ছে। ২০০৯ সালের লাক্সতারকা উর্মিলা অভিনীত উল্লেখযোগ্য ধারাবাহিক নাটকগুলো হচ্ছে নাগরিক, নূরজাহান, শূণ্য সমীকরণ, ইডিয়ট, গেইম, অচেনা প্রতিবিম্ব ইত্যাদি। গত সপ্তাহে উর্মিলা প্রথমবারের মতো সঙ্গীতশিল্পী তাহসানের সঙ্গে জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করেছেন মাবরুর রশিদ বান্নার ‘সম্পর্ক’ নাটকে। উর্মিলাকে বিজ্ঞাপনে খুব কমই দেখা গেছে। ২০১১ সালে তিনি প্রথম বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হিসেবে কাজ করেন। উর্মিলার ভীষন প্রিয় নবীন্দ্র সঙ্গীত, আর তাই তার মোবাইলে ওয়েলকাম টিউনে বেজে উঠে রবীন্দ্রসঙ্গীত-ই।

আরও পড়ুন...

নওগাঁর নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত!!

এনবিএন ডেক্সঃ ঈদ উপলে নওগাঁর মহাদেবপুরের ঐতিহ্যবাহী সাতরা বিলে অনুষ্টিত হয় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। উপজেলার …