এনবিএন ডেক্সঃ চার আদিবাসী শ্রমিক খুনের ঘটনায় এলাকাবাসীকে আতঙ্কিত না হতে পুলিশের মাইকিং ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের আশ্বাসে নওগাঁর মান্দা উপজেলার চকগোপাল গ্রামের কৃষকরা এখন ধান কাটামাড়াই কাজে ব্যস- সময় কাটাচ্ছেন। বাইরের শ্রমিকরা আবার ফিরে এসেছেন কাজে। গত তিনদিনে মাঠের সিংগভাগ ধান কাটা হয়ে গেছে। বাঁকি জমিতে কাটার কাজ চলছে। প্রায় ফাঁকা মাঠে চরছে গরু, ছাগল ও ভেড়া। বিবদমান জমিরও সব ধান কাটা হয়ে গেছে। কাটা ধানগুলো স্থানীয় ইউপি সদস্য জেহের আলীর জিম্মায় রয়েছে। গতকাল সরেজমিন চকগোপাল গ্রামের মাঠ ঘুরে এ দৃশ্য দেখা গেছে। ধান কাটতে আসা উপজেলার গনেশপুর ইউনিয়নের বাঙ্গালপাড়া গ্রামের শ্রমিক সাদেকুল ইসলাম, সেকেন্দার আলী, বেলাল হোসেন, আব্দুল বারীসহ আরো অনেকে জানান, ঘটনার পর আতঙ্কে তারা ওই মাঠে কাজ করতে আর যান নি। পরে আতঙ্গিত না হতে পুলিশের মাইকিং ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াদ আলী মন্ডলের আশ্বাসে তারা আবারো কাজে এসেছেন। দৈনিক ২৫০ টাকা মজুরিতে তারা ধান কাটার কাজ করছেন। শ্রমিক রুস-ম আলী জানান, পুলিশের আশ্বাসের পরেও তারা ভয়ে ভয়ে কাজ করছেন। বাড়ি থেকে প্রতিদিন ৫ কিলোমিটার হেঁটে তারা ওই মাঠে কাজে আসেন এবং সন্ধ্যালগ্নেই আবার ফিরে যান। আদিবাসী শ্রমিক খুনের মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে আটক আশরাফ আলীর জমির ধান তারা কাটামাড়াই করছেন। অপরদিকে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি সুরুত জামানের জমির ধান কাটছেন সিংগীহাট এলাকা থেকে আসা ছয়জন শ্রমিক। তাদের কাজে এনেছেন আসামি সুরুত জামানের ভায়রা মৈনম গ্রামের রেজাউল করিম। এসব শ্রমিকরা ২ হাজার টাকা চুক্তিতে প্রতি বিঘা জমির ধান কাটামাড়াই করছেন। আতঙ্ক না থাকার কথা বললেও কাজ শেষে প্রতিদিন তারা বাড়ি চলে যান। স’ানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াদ আলী মন্ডল জানান, আদিবাসী শ্রমিক খুনের পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় বাইরে থেকে আসা শ্রমিকরা কাজ শেষ না করেই চলে যান। এ অবস’ায় শ্রমিক সংকটে মাঠের পাকা ধান নষ্ট হবার উপক্রম হয়। পরে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে পরামর্শে ভীতি কাটাতে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। এছাড়া কাজে আসা শ্রমিকদের নির্ভয়ে কাজ করার জন্য সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। স’ানীয় ইউপি সদস্য জেহের আলী জানান, এলাকার আতঙ্ক অনেকটাই কেটে গেছে। গৃহস’রা এখন মাঠের ধান কাটামাড়া নিয়ে ব্যস- সময় কাটাচ্ছেন। অজ্ঞাতনামা আসামি হবার আতঙ্কে যারা আত্মগোপনে ছিলেন পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাসের পর তাদের অনেকেই এলাকায় ফিরে এসছেন। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুলাহেল বাকী জানান, চার আদিবাসী শ্রমিক খুনের পর আইন-শৃঙ্খলা পরিসি’তি নিয়ন্ত্রণ করতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়। পরিসি’তি স্বাভাবিক হবার পর সেখান থেকে পুলিশ সরিয়ে নেয়া হয়েছে। আতঙ্কের কারণে যাতে ধান কাটার কাজ বিঘ্নিত না হয় সেজন্য স’ানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। আদিবাসী শ্রমিক খুনের ঘটনাটি খুবই স্পর্শকাতর। অথবা কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন সে বিষয়ে লক্ষ্য রেখে অত্যন- সতর্কতার সঙ্গে মামলাটি তদন- করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। প্রসঙ্গত, উপজেলার কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের চকগোপাল গ্রামে প্রায় তিন একর জমি নিয়ে জোতদার ডালিম পক্ষের সঙ্গে আনোয়ার পক্ষের দীর্ঘ বিরোধ চলে আসছিল। গত ৪মে ডালিম পক্ষের হয়ে বিবাদমান জমির ধান কাটতে গিয়ে আনোয়ার পক্ষের হামলায় চার আদিবাসী শ্রমিক খুন হন।
Home / প্রতিবেদন / নওগাঁর মান্দায় চার আদিবাসী শ্রমিক খুন চকগোপাল গ্রামের কৃষকরা ধান কাটা-মাড়াই করছে: আতঙ্কিত না হতে পুলিশের মাইকিং
আরও পড়ুন...
বে-সরকারী সংস্থার উদ্যোগে নওগাঁয় স্বামী কর্তৃক অগ্নিদগ্ধ গৃহবধু সম্পা এখন সুস্থ্য
এনবিএন ডেক্স : স্বামী কর্তৃক অগ্নিদগ্ধ গৃহবধু সম্পাকে দীর্ঘদিন ঢাকায় বার্ণ হাসপাতালে চিকিৎসার পর সুস্থ্য …