পিরোজপুর প্রতিনিধিঃ
নাজিরপুর উপজেলায় সরকারী নিয়ম-নীতিকে উপেক্ষা করে এলাকার প্রভাবশালী একটি মহল সংঘবদ্ধভাবে দীর্ঘদিন যাবত অবৈধভাবে ইটভাটা স্থাপনের মাধ্যমে পরিবেশ ধ্বংসের পায়তারায় লিপ্ত রয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান, ভূমি, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ কিংবা বন বিভাগের ছাড়পত্র ছাড়াই গ্রাম-গঞ্জের ফসলীয় জমিতে পেশী শক্তির প্রভাব খাটিয়ে গড়ে তুলেছে ইটভাটা। ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে ওঠা এসব ইটভাটায় এক দিকে যেমন ফসলী জমি নষ্ট করছে অন্যদিকে এর কালো ধোঁয়া এলাকার জনসাধারণের স্বাসে’্যর জন্য চরম হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে। তাছাড়া এসব ইটভাটায় কাঠ পোড়ানোর ফলে পরিবেশ বিপর্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে এ অঞ্চলে হয়তো একদিন মানুষ বসবাসের অযোগ্য হয়ে দাড়াবে।উপজেলার বেশিরভাগ ইটভাটা জনবসতি ও আবাদযোগ্য জমিতে গড়ে ওঠার ফলে কালো ধোঁয়ায় প্রতিনিয়ত বিষক্ত হচ্ছে পরিবেশ। এর প্রভাব পড়েছে আশপাশের উর্বর আবাদি জমিতেও। সে কারণে আবাদি জমির উৎপাদন দিন দিন কমে যাচ্ছে। প্রতি বছর এ উপজেলায় ৩০ থেকে ৪০ টি ইটভাটায় পোড়ানো হয় প্রায় ৩শ’ একর আবাদি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি। সংশ্লিষ্টসূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় নতুন পুরাতন মিলিয়ে এপর্যনত্ম প্রায় ৪০টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। বিগত বছর গুলোতে এসব ভাটায় জেলা প্রশাসনের অনুমতি না নিয়েই ইট পোড়ানো হয়েছে। ইটভাটা স্থাপন কিংবা ইট পোড়ানোর পূবেই স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, ভূমি, স্বাস্থ্য ও পরিবেশসহ বন বিভাগের ছাড়পত্র নিয়ে অনুমতির জন্য জেলা প্রশাসনে আবেদন করতে হয়। কিন’ দেখা গেছে, অনেক ভাটা মালিকরা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না নিয়েই ইট পোড়ানোর কাজ শুরু করে। ইতি পূর্বে গড়ে ওঠা ভাটাগুলো হাইব্রিড হফম্যান কিলন, জিকজ্যাক কিলন এবং অন্যান্য উন্নত পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করার তাগিদ দেয়া হলেও এ মৌসুমে ভাটাগুলো এ পদ্ধতি অনুসরণ কিংবা রুপানত্মরের উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ৩নং দেউলবাড়ী দোবড়া ইউনিয়নের কলারদোয়ানিয়া গ্রামে আবাদ যোগ্য ও জনবসতি এলাকায় কোন প্রকার অনুমতি ছাড়াই একটি ইট ভাটার নির্মাণ কাজ প্রায় সম্পন্নের পথে। ঐ ভাটাটি জনবসতি এবং আবাদি জমির মধ্যেই নির্মিত হচ্ছে। এটি নির্মিত হলে বেশির ভাগ কৃষি পরিবার তাদের চাষাবাদ যোগ্য জমি হারাবে। পাশা পাশি এলাকার পরিবেশ দূষণের আশংকায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তাদের অভিযোগ, এভাবে লোকালয়ে এবং কৃষি জমিতে ইটভাটা গড়ে তোলায় একদিকে যেমন কৃষি জমি হারাচ্ছে তার উর্বরতা এবং কমে যাচ্ছে কৃষি জমি, অন্যদিকে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের কবলে পড়ে সর্বশানত্ম হচ্ছে মানুষ। কৃষি জমির উর্বরা শক্তি নষ্ট এবং ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে ভাটাগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানিয়েছেন এলাকাবাসী।এলাকাবাসীর অভিযোগ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ভাটাগুলো পরিদর্শন না করে দপ্তরে বসেই অনেক ভাটা মালিকের অনুমতি ও ছাড়পত্র দিয়ে চলছেন। যে কারণে একবার অনুমতি পাওয়ার পর কয়লা দিয়ে ইট পোড়ানোর কথা উল্লেখ থাকলেও প্রকাশ্যে বেশিরভাগ ইটভাটায় কাট পোড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত ১৯৯২ সালের প্রজ্ঞাপনে কৃষি জমিতে ইটভাটা নির্মাণ দন্ডনীয় অপরাধ উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও নাজিরপুরে কোন ভাটায় এ নিয়ম মানা হচ্ছে না। এ বিষয়ে একটি ইটভাটার মালিক আল-আমিনের নিকট জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন, “সব নিয়ম মানা যায় না। আমরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই প্রতি বছর ইট পোড়াই”। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শওগাতুল আলম জানান, “ভাটার অনুমোদন নির্বাহী কর্মকর্তা দেয় না। এগুলো পরিবেশ অধিদপ্তর দেয়। তবে যদি কেউ অভিযোগ করে তাহলে নিয়মনীতি দেখে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে”।
আরও পড়ুন...
বে-সরকারী সংস্থার উদ্যোগে নওগাঁয় স্বামী কর্তৃক অগ্নিদগ্ধ গৃহবধু সম্পা এখন সুস্থ্য
এনবিএন ডেক্স : স্বামী কর্তৃক অগ্নিদগ্ধ গৃহবধু সম্পাকে দীর্ঘদিন ঢাকায় বার্ণ হাসপাতালে চিকিৎসার পর সুস্থ্য …