পীরগঞ্জ (রংপুর)প্রতিনিধিঃ পীরগঞ্জের বেশীর ভাগ ক্লাব সমিতি অপরাধীদের আখড়া ও সাধারন মানষকে শোষনের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে । অথচ এ সব রোধে সংশিষ্ট প্রশাসন কোন পদক্ষেপ গ্রহন করছেন না । ফলে এক দিকে যেমন সাধারন মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে অন্য দিকে সামাজিক অপরাধ প্রবনতাও বেড়েই চলছে।
বিভিন্ন এলাকাবাসীর অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার ভেন্ডাবাড়ী, শানেরহাট, বড়দরগাহ, গুর্জিপাড়া, মাদারগঞ্জ, কুমেদপুর, রসুলপুর, চতরা সহ অনেক স’ানে ক’জন যুবকের সমন্ময়ে নামে বেনামে গড়ে তোলে ক্লাব সমিতি । সমাজ সেবা মুলক কর্মকান্ডে অংশ গ্রহনের অঙ্গিকারে এ সব ক্লাব সমিতি উপজেলা সমাজসেবা ও সমবায় বিভাগ থেকে রেজিট্রেশন প্রাপ্ত হলেও তাদের সেবামুলক কর্মকান্ডে কোন অংশ গ্রহন নেই । এর পরিবর্তে ঐ সব ক্লাব সমিতি নিয়ম বহির্ভুত ভাবে চালিয়ে যাচ্ছে চড়া সুদে দাদন ব্যবসা । অনেক সাধারন ব্যক্তি ওই সব ক্লাব সমিতি থেকে ঋন নিয়ে সর্ব শান- হয়ে গেছে । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু সংখ্যক ক্ষতিগ্রস’ ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে ঋন প্রদানের সময় তাদের কাছ থেকে সাদা স্টামে স্বাক্ষর নেয়া হয় । এ স্বাক্ষর প্রদানেই তাদের অজ্ঞতায় সহজ সরল ব্যক্তিরা জিম্মি হয়ে পড়ে ওই সব ক্লাব সমিতির কাছে । এর পর ঋন গ্রহন কারী ব্যক্তি প্রতি মাসে প্রতি হাজারে ২ শত টাকা করে লভ্যাংশ প্রদান করে । কোন মাসে টাকা প্রদানে ব্যর্থ হলে চক্র সুদে টাকার পরিমান বাড়তে থাকে । এক ব্যক্তি জানান তিনি বড়দরগাস’ এক সমিতির কাছে তাব স্ত্রীর অসুস’তার কারনে ১৫ হাজার টাকা ঋন নিয়েছিল । প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে ১০ মাসে ৩০ হাজার টাকা লাভ প্রদান করার এক পর্যায়ে তিনি দুঘৃটনায় গুরুতর আহত হলে ৫ মাস লাভ দিতে ব্যর্থ হয় । এতে চক্র বৃদ্ধি সুদ সহ ঐ ব্যাক্তির দেনার পরিমান দাড়ায় পুনঃরায় ৩০ হাজার টাকা । যা শেষ সন্বল ১০ শতাংশ জমি বিত্রি করে পরিশোধ করতে হয়েছে । সর্বপরি ১৫ হাজার টাকা ঋন নিয়ে ১৫ মাসে ঐ ব্যক্তিকে ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে । এমনি অবস’া হাজারো পরিবারের ।
অপর দিকে ক্লাব সমিতি গুলিতে দাদন ব্যবসার পাশাপাশী জুয়া, মদ্যপান , যথা সময়ে টাকা প্রদানে ব্যর্থদের প্রহার ও অপমান করার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহত হছে । এরা এত সুসংগঠিত ও সাহসী যে এসব অন্যায় ও অপকর্মেব প্রতিবাদের সাধ্য কারও নেই ।
ক্লাব সমিতি গুলির এমন কর্মকান্ডে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষেরও নেই কোন পদক্ষেপ । নিদৃষ্ট সময়ে মোটা অংকের অর্থ নিয়ে রেজিট্রেশন নবায়ন করে দেয়ার মধ্যে দিয়েই যেন তাদের দায়িত্ব শেষ । সমিতি গুলির কর্মকান্ডের নেই কোন তদারকি । প্রশাসনও রয়েছে নীরব । আর যে কারনে ঋনের নামে এ সব শোষন ও অপরাধ বেড়েই চলছে । সমিতি গুলির সার্বিক এ পরিসি’তে বিভিন্ন এলাকা বাসীর প্রতাশা সংশ্লিষ্ঠ কতৃপক্ষ সহ প্রশাসনের এ ব্যাপারে জরুরী পদক্ষেপ গ্রহন করা উচিত । অন্যথায় এর ব্যপ্তি অনাকাঙ্কিত পরিসি’তির সৃষ্টি করবে ।
আরও পড়ুন...
বে-সরকারী সংস্থার উদ্যোগে নওগাঁয় স্বামী কর্তৃক অগ্নিদগ্ধ গৃহবধু সম্পা এখন সুস্থ্য
এনবিএন ডেক্স : স্বামী কর্তৃক অগ্নিদগ্ধ গৃহবধু সম্পাকে দীর্ঘদিন ঢাকায় বার্ণ হাসপাতালে চিকিৎসার পর সুস্থ্য …