পিরোজপুর প্রতিনিধি: বৃহস্পতিবার দুপুর পোনে একটা, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে কয়েকজন মেডিসিন কোম্পানির প্রতিনিধিরা ডাক্তারের সাথে স্বাক্ষাতের জন্য ঘুরছে। হাসপাতালের বারান্দায় রোগীরা কেহ টুলে বসে, কেহ দাড়িয়ে ডাক্তার দেখাবার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছে। তখন অফিস সহকারীদের সাধারণ কক্ষে তালা ঝুলছে। তিন জন ডাক্তার অফিসে বসে থাকলেও ডাক্তার আর, কে সাহার কক্ষে কোন রোগী নেই। তিনি পত্রিকা পড়ে সময় কাটাচ্ছেন। অন্য এক ডাক্তার এস, এ, খান তিনি ধীর গতিতে রোগী দেখছেন। তার স্ত্রী গাইনী ও শিশু বিষয়ক ডাক্তার তানজিলা জামান ও রোগী দেখায় ব্যস-। তারা রোগীদের দেখলেও কোন ঔষধ সরবরহ না থাকায় শুধু পরামর্শ ও ব্যবস্থা পত্র দিয়ে রোগীদের খালি হাতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। একজন নার্স ইপি, আই সেকসনে বসে রোগীদের পরামর্শ দিচ্ছেন। এ চিত্র পিরোজপুররে উপকুলবর্তী জিয়ানগর ৫০ শয়্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। চার দলীয় জোট সরকারের আমলে নির্মানাধীন জিয়ানগর স্বাস্থ্য কমপে্লেক্সর নির্মান কাজ ২০০৮ সালে শেষ হলে ঐ বছরের শেষের দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হয়। বিভিন্ন প্রতিকুলতার মধ্যে ও ডাক্তাররা স্বাস্থ্য সেবা দিলেও ৩ বছরে ও ইনডোর ও আউটডোর চালু না হওয়ায় এ উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ হাসপাতাল থাকতেও স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরকারের উচ্চ পর্যায় একাধিকবার লিখিত ও মৌখিক ভাবে হাসপাতালের সমস্যার কথা জানালেও বিষয়টি শুধু কাগজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, এ জন সার্জন, তিন জন মেডিকেল অফিসার, দুই জন মেডিকেল সহকারী, নয় জন নার্স, একজন অফিস সহকারী, একজন ক্যাশিয়ার, একজন পরিসংখ্যন, তিন জন ঝাড়-দার, দড়োয়ান একজন, গাড়ী চালক একজন, আয়া দুইজন, পিয়ন দুই জন, এছাড়া রয়েছেন স্বাাস’্য সহকারী ও পরিদর্শক। প্রতি মাসে এ স্বাস’্য কমপ্লেক্সে থেকে এরা নিয়মিত বেতণ ভাতা উত্তোলন করলেও হাসপাতালে ঔষধ ও খাদ্য সামগ্রি বরাদ্দ না দেওয়ায় জরুরী রোগীদের ভর্তি করা যাচ্ছে না। ফলে কর্মরত অনেকেরই হাসপাতালে ঘুরে ফিরে সময় কাটাতে হয়। হাসপাতালে একটি এক্সরে মেশিন দিলেও তা সিভিল সার্জন পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় বলে ডাক্তাররা জানান। গত ৬ সেপ্টেম্বর এ স্বাস’্য কমপ্লেক্সে একটি এ্যাম্বুলেন্স প্রদান করা হয়। এ্যাম্বুলেন্সএর চাবি হস-ান-র করেন স’ানীয় সংসদ সদস্য এ, কে, এম, এ, আউয়াল। ঐ অনুষ্ঠানে ডাক্তরা হাসপাতালের জরুরী ঔষধ সরবরহ সহ ইনডোর আউটডোর চালুর ব্যাপারে সংসদকে জানালে তিনি বলেন এ বিষয় একনেকের সুপারিশের দরকার। পর্যায় ক্রমে হাসপাতালের সব কার্যক্রম শুরু হবে। এ হাসপাতালে নয় জন নার্স থাকলেও এখানে মাত্র ৪ জন কাজ করছেন। বাকি ৫ জন পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ডেপুটেশনে রয়েছে। সরজমীনে গিয়ে গত বৃহস্পতিবার সিনিয়র নার্স শিপ্রা রাণীকে ইপি, আই সেকশনে সেবাপ্রদান করতে দেখা যায়। এবং বেলা একটায় অফিস সহকারীর রুমে তালা ঝুলতে দেখা যায়। হাসপাতালের বারান্দায় অপেক্ষমান ভবানীপুর গ্রামের বিউটি আক্তার জানান সকাল নয়টা থেকে ডাক্তার দেখাবার জন্য দাড়াইয়া আছি। এখন (১.৩০) মিনিট পর্যন- ডাক্তার দেখাতে পারিনাই। অন্য এক রোগী কালাইয়া গ্রামের নাসরিন আক্তার জানান ডাক্তার স্যারদের দেখা পেলেও শুধু প্রিসক্রিপসন লিখে দিয়েছে। কোন ্ঔষধ পাইনি। এভাবে প্রতিদিন শত শত লোক হাসপাতালে এসে ডাক্তারের স্বাক্ষাত পেলেও কোন ঔষধ না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যায়। এলাকা বাসী জানান কেহ দুর্ঘটনার শিকার হলে বা হটাৎ অসুস’ হলে এখানে ভর্তি করে স্বাস্থ্য সেবা নেয়ার কোন সুযোগ নেই। একটি ফেরী পার হয়ে উপজেলা সদর থেকে ১৫ কিঃ মিঃ দুরে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে গিয়ে মুমূর্ষ রোাগীদের ভর্তি করতে হয়। তাতে প্রায়ই রোগীদের ভোগানি-র শিকার হতে হয়। উপজেলা স্বাস’্য কর্মকর্তা ডাঃ প্রশান- কুমার জানান আমাদের জনবল আছে শুধু ঔষধ সরবরহ করলেই ইনডোর ও আউডোর চালু করা সম্ভব এবং এলাকা বাসীকে নুন্যতম স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া যাবে। অন্য এক ডাক্তার সাকিল আহম্মেদ খান জানান আমরা শুধু ব্যবস্থা পত্র ও পরামর্শ ছাড়া রোগীদের আর কিছু দিতে পারছি না। এলাকা বাসীর দাবী লক্ষাধিক লোকের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতের জন্য জরুরী ঔষধ ও খাদ্য সমগ্রী সরবরহকরলে এলাকাবাসী দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা পূরণ হত।
Home / প্রতিবেদন / জিয়ানগরে তিন বছরেও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইনডোর ও আউটডোর চালু না হওয়ায় লক্ষাধিক মানুষ স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছে না
আরও পড়ুন...
বে-সরকারী সংস্থার উদ্যোগে নওগাঁয় স্বামী কর্তৃক অগ্নিদগ্ধ গৃহবধু সম্পা এখন সুস্থ্য
এনবিএন ডেক্স : স্বামী কর্তৃক অগ্নিদগ্ধ গৃহবধু সম্পাকে দীর্ঘদিন ঢাকায় বার্ণ হাসপাতালে চিকিৎসার পর সুস্থ্য …