এনবিএন ডেক্স: নওগাঁর হাট বাজার গুলোতে ব্যবসায়িদের মধ্যে জাল টাকার আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রতিনিয়ত ব্যবসায়ীদের হাতে আসছে জাল টাকার নোট। ঝুঁট-ঝামেলা এড়াতে জাল নোট পাওয়া মাত্র তারা তা নষ্ঠ করে ফেলছেন। আর প্রশাসনের ঝামেলা এড়াতে অনেকেই নিরবে থাকছে। জাল টাকার ছড়া-ছড়ি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিড়ম্বর শিকার হতে হচ্ছে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কে। জাল টাকার কারবারি চক্রের সাথে সংশ্লিষ্টদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলেও সমালোচকদের অভিমত। খুচরা বিক্রেতা থেকে শুরু করে পাইকারী বিক্রেতাদের হাতে আসছে জাল টাকা। আইনি জটিলতা এড়াতে জাল টাকা হাতে পাওয়া মাত্রই ব্যবসায়ীরা তা নষ্ঠ করে ফেলছে। জাল টাকার নোট গুলো এতটায় সুক্ষ্ণ যে প্রাথমিক ভাবে তা (নকল) ধরা কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। এতে করে একদিকে জাল টাকার কারনে যেমন বিড়ম্বণার শিকার হচ্ছে তেমনি অন্যদিকে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের মধ্যে অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। আর সুযোগ সন্ধানী জাল টাকার কারবারী কৌশলে বাজারে জাল টাকা ছড়িয়ে দিচ্ছে। ভূক্তভোগী জানান, ২০, ৫০, ১শ’, ৫শ’ ও ১০০০ হাজার টাকার জালনোট বেশী দেখা যাচ্ছে। জালনোট গুলো নিত্য নতুন উন্নত প্রযুক্তিতে এতটায় সুক্ষ্ণ ভাবে তৈরী যে ব্যবসায়ী সহ সাধারণ মানূষের চিনতে অনেকটা কষ্ট হচ্ছে। এমনকি নতুন ১০ টাকার নোটরের উপর ছাপ দিয়ে ৫০ টাকার জাল নোট তৈরী হচ্ছে। জাল টাকার জল ছাপ ও নিরাপত্তা সুতাও দেওয়া থাকচ্ছে। তাতে করে আসল-নকল চিনতে বেশ অসুবিধায় পড়ছে ব্যবসায়ীসহ সাধারণ ক্রেতারা। এমনকি ব্যাংক কর্র্তপক্ষকেও জাল টাকা চিনতে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে। এব্যাপারে আসল-নকল নোট চেনার জন্য ব্যাংক সহ বিভিন্ন অফিসে প্রচার প্রচারণা চালালেও জনসচেতণতায় তা যথেষ্ট নয়। ফলে জনসাধারণ জাল নোট নিয়ে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন। আগে ছোট অঙ্কের নোট জাল না হলেও বর্তমানে তা হচ্ছে। সমপ্রাতি পত্নীতলা উপজেলার এক মাদ্রাসা সুপার ব্যাংক থেকে বেতনের টাকা তুলেন এবং ওই ব্যান্ডিলের মধ্যে থেকে একটি ৫শ’ টাকার জাল নোট হাতে আসলে তাৎক্ষণিক তা নষ্ঠ করে ফেলেন। এব্যাপারে কয়েকজন বিক্রেতা জানান, প্রায় সময় জাল নোট হাতে আসছে কিন’ ঝামেলা এড়াতে নষ্ঠ করে ফেলছি। তাছাড়া বড় অংকের নোট গুলো ভাল করে যাচাই বাছাই করে নেওয়ার চেষ্ঠা করছি। অতিতে ঈদ ও পুজার আগে হাট বাজার গুলোতে জাল টাকার কারবারীরা তৎপরতা বৃদ্ধি পেলেও বর্তমানে জাল টাকার কারবারিদের তৎপরতা আবারো বৃদ্ধি পেয়েছে। আর সারা দেশের ন্যায় নওগাঁর বিভিন্ন উপজেলা ও হাটবাজার গুলোতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে জাল নোট সরবরাহের চক্রগুলি। সূত্রে প্রকাশ, বর্তমানে এ চক্রটি মহিলাদেরকে ও ব্যবহার করছে। চক্রটি অপেক্ষাকৃত বেশি ভিড় মার্কেট গুলো নিরাপদ ভেবে সেখানে হানা দিচ্ছে। আর নোট গুলো জাল চিহ্নত হলে পাচ্ছে ঝামেলা এড়াতে চুপিসারে ভূক্তভোগী নোটটি নষ্ঠকরে নিজেকে বিপদ মুক্ত করতে হাজার হাজার টাকার ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। আর এ থেকে প্রতিকারের যেন কোন পথ নেই। জাল নোট চক্রের কাছে এক প্রকার জিম্নি হয়ে পড়েছে জণসাধারন। উল্লেখযোগ্য প্রশাসনিক তৎপরতা না থাকায় সাবই যেন জাল নোট কারবারীদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে। দিনে দিনে এ চক্রটি বেপরোয়া হয়ে উঠছে। মাঝে মধ্যে দু’ একজন ধরা পড়লেও মূলহোতারা থাকছে ধরাছুয়ার বাহিরে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান, ব্যাংক থেকে উঠানো টাকার বান্ডিলের মধ্যেও মাঝে মধ্যে জাল নোট গুজে দেওয়া হচ্ছে। এতে করে কিছু অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তা এর সাথে জড়িত থাকতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। জাল টাকার ঠিক প্রকৃত উৎস এবং কারা জড়িত রয়েছে তা চিহ্নত করতে না পারায় প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছে সর্বসাধারন। সুযোগ সন্ধানী চক্রটি নওগাঁর হাট বাজার গুলোতে ছড়াছে জাল টাকা। আর প্রতিনিয়ত সাধারণ ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে জাল টাকার আতঙ্ক বিরাজ করছে।#
আরও পড়ুন...
বে-সরকারী সংস্থার উদ্যোগে নওগাঁয় স্বামী কর্তৃক অগ্নিদগ্ধ গৃহবধু সম্পা এখন সুস্থ্য
এনবিএন ডেক্স : স্বামী কর্তৃক অগ্নিদগ্ধ গৃহবধু সম্পাকে দীর্ঘদিন ঢাকায় বার্ণ হাসপাতালে চিকিৎসার পর সুস্থ্য …