এনবিএন ডেক্সঃ নওগাঁর ধামইরহাটে দলিল লেখক সমিতি জমি ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিকট থেকে প্রতি মাসে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে থাকে। এতে সর্বশান্ত হচ্ছে সাধারণ জমি ক্রেতা-বিক্রেতারা। আদায়কৃত অবৈধ অর্থ রাতের আধারে সমিতির সদস্যগণ ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয়। সমিতির নিয়ম অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা মূল্যের দলিল করলে সরকারী ফি ছাড়াও অতিরিক্ত ৯ শতাংশ টাকা সমিতিতে জমা দিতে হয় ক্রেতাদের। প্রভাবশালীদের এই চাঁদা থেকে অব্যাহতি দেয়া হলেও অসহায় দরিদ্র ক্রেতাগণ সমিতির ফাঁদ থেকে বের হতে না পেরে ধার্য্যকৃত অবৈধ চাঁদা দিতে বাধ্য হয়। সমিতির নিয়মে দলিল না লিখলেও কোন কোন সদস্য ১দিনে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার চাদা ভাগ পেয়ে থাকে। বিপুল পরিমান কালো টাকা পেয়ে কোন কোন দলিল লেখক সমাজে টাকার দাপটে ধরাকে সরা জ্ঞান করছে না। দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আঃ গফুরকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি চাঁদা বাজির কথা অস্বীকার করেন নি। দলিল প্রতি সাব-রেজিষ্ট্রার দাখিলার নামে নির্ধারিত হিস্যা পেয়ে থাকেন, দলিল লেখকদের মাধ্যমে এসব টাকা আদায় হয়। এছাড়াও বিভিন্ন কাগজের ঘাটতি দেখিয়ে সাব-রেজিষ্ট্রার তার অফিস সহকারীর মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্রেতাদের নিকট থেকে উৎকোচ আদায় করে থাকে। সাব-রেজিষ্ট্রার শহিদুল ইসলাম এর নিকট সত্যতা জানতে চাইলেও তিনি অস্বীকার করেন। ধামইরহাট উপজেলা সদরের চকযদু গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদিন কবরস্থানের জন্য গত ৩১ মার্চ’ ১৪ তারিখ ২ শতক জমি ক্রয় করলে মুল্য অনুযায়ী সরকারী ফি ৭ হাজার ৬৫০ টাকা হলেও তাকে বাধ্য করে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আঃ গফুর ১৫ হাজার টাকা আদায় করেন। এ অন্যায়ের ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদিন জেলা রেজিষ্ট্রার, জেলা দূর্নীতি দমন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়ে কোন প্রতিকার পাননি। এ বিষয়ে জেলা রেজিষ্ট্রার শফিকুর রহমানের নিকট মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তদন্ত দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। অভিযোগের ৩ মাস পরও তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদিন অভিযোগ করেন দলিল লেখক সমিতির সঙ্গে যোগ-সাজসে এই প্রতিবেদন প্রদানে বিলম্ব করছেন। মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদিনের এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা রেজিষ্টার শফিকুর রহমান যোগসাজসের বিষয় অস্বীকার করেন। দুর্নীতি ও চাঁদা বাজির বিরুদ্ধে সুবিচার না পেয়ে গত ২৯ জুন রবিবার মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদিন নওগাঁ জেলা প্রশাসকের হাতে এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পত্র প্রদান করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি দাবী করেন। এ সময় ধামইরহাট বাজারস্থ জুতা ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান মামুন জেলা প্রশাসকের নিকট অভিযোগ করেন তার আতœীয়ের জমি রেজিষ্ট্রি করতে অনেক কাকুতি-মিনতি করেও দলিল লেখক সমিতি ১৭ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে নিয়েছে। নওগাঁর জেলা প্রশাসক এনামুল হক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে অভিযোগকারীদের আশ্বাস প্রদান করেন এবং প্রত্যেক দপ্তরে জমি রেজিষ্ট্রির সরকারী মুল্য তালিকা টাঙ্গিয়ে দিতে ইউএনওকে নির্দেশ প্রদান করেন। ধামইরহাট চকযদু গ্রামের আঃ মজিদের ছেলে মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা মুল্যের দলিলে সরকারী খরচ ছাড়াও দলিল লেখক সমিতি তথা অর্থ সন্ত্রাসী হায়না সমিতি জোর পূর্বক ১১ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে। ইতিপূর্বে একজন প্রভাবশালীর দলিল করতে সমিতির চাঁদাসহ খরচের হিসাব দেওয়ায় এক দলিল লেখককে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। অথচ একজন গরীব খেটে খাওয়া মানুষ সমিতির অবৈধ চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে, তাকে বেকায়দায় ফেলে দলিল রেজিষ্ট্রি সাসপেন্ড করা হয়, হয়রানিও করা হয়। অসংখ্য জমি ক্রেতা-বিক্রেতারা মিডিয়া কর্মীদের নিকট মৌখিক অভিযোগ করেন দলিল লেখক সমিতির চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে। সমিতির বিপুল পরিমান কালো টাকার দাপটে শেষ পর্যন্ত সুবিচার পাওয়া যাবেনা, এমন হতাশায় তারা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ করতে অনিহা প্রকাশ করেন। সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের উচিত, এই অবৈধ কালো টাকার খেলা নিপাত করে “জনসেবার জন্য প্রশাসন” এটা প্রমান করা। তবেই সরকারী কর্মকর্তাদের উপর ভুক্তভোগী তথা সকল জনগনের আস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। এটিই সর্ব সাধারনের প্রত্যাশা।
Home / ক্রাইম নিউজ / নওগাঁর ধামইরহাটে দলিল লেখক সমিতির মাসে অর্ধকোটি টাকা চাঁদাবাজি – সর্বশান্ত জমি ক্রেতা-বিক্রেতারা!!
আরও পড়ুন...
নওগাঁয় তরুণকে অপহরণ চেষ্টা, আটক ২
নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর মান্দায় এক তরুণকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন দুই …