কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
প্রথম দিন ডালপালা কর্তন, দ্বিতীয় দিন গোড়া কর্তন করে দুই দিনে দু’টি বড় রেইনট্রি গাছ কেটে ট্রাক ভর্তি করে নিয়ে গেছে জেলা পরিষদের কেয়ারটেকার আব্দুল মজিদ। জীবন- গাছ কাটা হচ্ছে কেন ? কেয়ারটেকার আব্দুল মজিদের সোজা উত্তর জেলা পরিষদ সচিব স্যারের লিখিত আদেশ আছে। সে একটি চিঠি দেখায় যার স্মারক নং জেপ/কুড়ি/সংস’া/গাছ/০৩-১১-১২/৮০ তারিখ-০১-০২-১২ স্বাক্ষর করেছেন সচিব জেলা পরিষদ কুড়িগ্রাম। চিঠির মর্ম গাছ দু’টি হেলে পড়ে ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় আছে তাই কাটার নির্দেশ দেয়া হলো। সরকারী রাস্তার পাশের জীবন- বড় দু’টি রেইনট্রি গাছ কাটা হচ্ছে স্থানীয় লোকজন মুঠোফোনে জানালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একটি গাছে গোড়া কেটে ফেলা হয়েছে, অন্যটি কাটার প্রস’তি চলছে। যে গাছটি কাটা হয়নি দেখা গেল সেটি হেলেও পড়েনি, কোন ঝুকিপূর্ণ নয়। সোজা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। প্রশ্ন করা হয় সোজা ও জীবন- গাছ দু’টি ঝুকিপূর্ণ হলো কিভাবে ? কেয়ারটেকার আব্দুল মজিদের উত্তর ম্যানেজ করলে সবই সম্ভব। ম্যানেজের বিষয়টি অনুসন্ধান করে জানা যায়, নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ বাজার হতে নুনখাওয়া গামী রাস-ার পাশে ১৯৮০ সালে আরডিআরএস বাংলাদেশ বিভিন্ন জাতের গাছ রাস-ার দু’পার্শে লাগান। ৩২ বছরে সেই গাছগুলি এখন বিশাল আকৃতি হয়েছে। প্রতিটি গাছের মূল্য প্রায় ২০/৩০ হাজার টাকা। ভিতরবন্দ বাজারের ব্যবসায়ী ইউনুস আলীর দোকান ঘরের সাথে ঐ গাছ দু’টি হওয়ায় তার দোকানের খুব অসুবিধা হচ্ছিল। আপদ দুর করার জন্য সংশ্লিষ্ট একটি মহলের পরামর্শে ‘হেলা পড়া ঝুকিপূর্ণ’ শব্দগুলো ব্যবহার করে স’ানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সুপারিশ নিয়ে জেলা পরিষদে কর্তন করার জন্য দরখাস- করেন। শুরু হয় ম্যানেজ প্রক্রিয়া। আবেদনকারীর শ্যালক (ততবীরকারক) আব্দুল খালেক সবকিছু ম্যানেজ করেছেন। জানতে চাইলে আব্দুল খালেক জানান, কারো দোকানের সামনের গাছ কাটার দরকার হলে আমি তা কেটে দেওয়ার ব্যবস’া করতে পারবো। সে আরো জানায়, ৮/১০ হাজার টাকা খরচ করলে জেলা পরিষদের গাছকাটা সংক্রান- চিঠি ইস্যু করার কোন বিষয় না। সে আরোও জানায়, গাছ দু’টি কাটার ক্ষেত্রে কেয়ারটেকারকে ৩ হাজার টাকা বক্সীস দিয়েছি এবং সরেজমিন তদনে- আসা জেলা পরিষদের উপসহকারী প্রকৌশলীকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে ম্যানেজ করেছি।
উল্লেখ্য, সরকারীভাবে নিয়ন্ত্রীত কোন জীবন- গাছ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের আদেশ ছাড়া কাটা সম্পূর্ণ বেআইনী। আরডিআরএস বাংলাদেশ নাগেশ্বরী জোনাল অফিসের সিনিয়র ম্যানেজার পাপন সরকার জানান, গাছকাটা বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তিনি বলেন, দাঁড়িয়ে থাকা জীবন্ত গাছ কোন অবস্থায় জেলা পরিষদ কাটতে পারে না। গাছগুলো লাগানোর সময় স্থানীয় সরকার ও বেনিফিসারিদের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছিল, সেই চুক্তির বিধান জেলা পরিষদ মানছেনা। ফলে যারা কষ্ট করে গাছগুলো লাগিয়েছিল তারা এবং ইউনিয়ন পরিষদ বা উপজেলা পরিষদ কিছুই পাচ্ছে না।
এ বিষয়ে জেলা পরিষদ সচিবের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোন রিসিভ করেননি।
Home / ক্রাইম নিউজ / কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের কেয়ারটেকার কেটে নিয়ে গেল রাস্তার ২টি জীবন্ত রেইনট্রি গাছ
আরও পড়ুন...
নওগাঁয় তরুণকে অপহরণ চেষ্টা, আটক ২
নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর মান্দায় এক তরুণকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন দুই …