এনবিএন ডেক্সঃ নওগাঁর মহাদেবপুরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে কম্পিউটার শিক্ষা চলছে যেন তেন প্রকারে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষাঙ্গনের কম্পিউটার বিষয়ের শিক্ষকেরা অন্যতম ভূমিকা পালন করছে। বিজ্ঞানের যুগে তথ্য প্রযুক্তির ব্যাপক বিস-ার লাভ করায় এর প্রভাব পড়তে শুরু করে দেশের সকল শিক্ষাঙ্গনে। নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা ভৌগলিক অবস’ার দিক থেকে অনেক উন্নত। এ উপজেলার উপর দিয়ে আত্রাই নদী প্রবাহিত হওয়ায় গুরুত্ব আরো বেড়ে যায়। ফলে এখানে খুব দ্রুত গড়ে উঠে নানা মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ উপজেলায় ৪০টি উচ্চ বিদ্যালয়, ১২টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১টি কারিগরি বিদ্যালয়, ২১টি দাখিল মাদ্রাসা, ৩টি ফাযিল মাদ্রাসা, ৫টি আলিম মাদ্রাসা, ৭টি কারিগরি কলেজ ও ৫টি কলেজ রয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য সারাদেশ থেকে মেধাবীদের খুজে বের করার জন্য প্রতিটি বিদ্যালয় ও কলেজে কম্পিউটার শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। উপজেলার অধিকাংশ বিদ্যালয়ে কম্পিউটার শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন হলেও এর সফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। খোজ নিয়ে জানা গেছে, কম্পিউটার শিক্ষক নিয়োগের বিধি অনুযায়ী বিদ্যালয়ে আলাদা রুম, বিদ্যুৎ ও ৬০জন কম্পিউটার বিষয়ের শিক্ষার্থী থাকা বাধ্যতামুলক হলেও অনেক প্রতিষ্ঠানেই এসব নেই। এমনকি অনেক প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব কম্পিউটার পর্যন- নেই। যে প্রতিষ্ঠান গুলোতে আছে সেগুলোও পুরোনো। আবার অনেক শিক্ষক কম্পিউটার সেন্টারে ৩-৬ মাসের কোর্স সম্পন্ন করে কম্পিউটার বিষয়ের সনদ সংগ্রহ করে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সাথে মোটা অংকের চুক্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন। এর প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থীদের উপর। ফলে শংকিত হয়ে পড়ছেন এলাকার অভিভাবকবৃৃন্দ। কেননা মেধা শূণ্য শিক্ষক নিয়োগ দানের প্রভাবে মেধাবীরা খারাপ শিক্ষাঙ্গন ত্যাগ করছেন। উপজেলা জাহাঙ্গীরপুর সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ এস এম জিল্লুর রহমান বলেন, শহরের বিদ্যাপিঠ গুলোতে শিক্ষার মান উন্নত হওয়ায় গ্রামের মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের বিকাশ ঘটিয়ে তথ্য প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় টিকতে পাড়ছে না। ফলে শিক্ষায় আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে পরির্বতন আনা হয়। শুরু হয় বিদ্যালয় ও কলেজে কম্পিউটার বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া। মেধাবীরা আবারও আশা নিয়ে মেধা বিকাশের জন্য ছুটে আসেন শিক্ষাঙ্গনে। শিক্ষার্থীদের পদচারনায় শিক্ষাঙ্গন গুলো আবারও উৎসব মুখর হয়ে উঠে। কিন’ সেখানেও নানা প্রতিবন্ধকতা বলে উপজেলার একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করেন। উপজেলা জাহাঙ্গীরপুর বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ গিয়াস উদ্দীন বলেন, মফস্বলের বিদ্যালয় গুলোতে কম্পিউটার বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা শুররু থেকেই তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে পারছে। যদি এদের সঠিক ভাবে ধারনা দেয়া হয় ভবিষ্যতে তারা দেশের প্রয়োজনে অনেক বড় অবদান রাখবে। মহাদেবপুর সর্বমঙ্গলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম জসিম উদ্দীন বলেন, অনেককে সঠিক ভবে যাচাই বাছাই না করেই গুরুত্বপূর্ণ কম্পিউটার বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হলে ভূল থেকে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। উপজেলার মাতাজী টেকনিক্যাল এন্ড বি এম কলেজের অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান বলেন, তারা বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সকল বিধি মেনে কম্পিউটার বিভাগ চালু করেছেন। বিনোদপুর আখতার হামিদ সিদ্দিকী টেকনিক্যাল এন্ড বি এম কলেজের অধ্যক্ষ এস এম কামরুজ্জামান বলেন, অনেক সময় বিধি অনুযায়ী ৬০জন শিক্ষার্থী পাওয়া যায় না। আবার অনেক পুরানো শিক্ষা বর্ষের শিক্ষার্থীরা কারিগরি শাখায় ভর্তি হয়ে তাদের মেধা বিকাশের সুযোগ পাচ্ছে। সেটি কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। কোন ভাবে অযোগ্য, অদক্ষ্য ও স্বল্পদিনের কম্পিউটার বিষয়ে প্রশিক্ষন প্রাপ্ত শিক্ষককে নিয়োগ দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। উপজেলার বিভিন্ন উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক সম্পর্কে নানা ভাবে তথ্য প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে মোবাইল ফোনে উপজেলার রসুলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সনে-াষ কুমার, কুড়াইল শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমান, দেবরপুর ডিএনজি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সারোয়ার জাহান, বিলছাড়া আরসিপি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষকের নাম জানাতে গড়িমসি করেন। এছাড়াও পাহাড়পুর জে এন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মায়া রানী সাহা ও মালাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুক্তা চন্দ্র দাস জানান, তাদের বিদ্যালয়ে কম্পিউটারের জন্য আলাদা কোন রুম নেই। তবে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অন্যান্য বিদ্যালয়ের চেয়ে বেশি। বিধি অনুযায়ী কম্পিউটারের জন্য ৬০জন ছাত্র ছাত্রী থাকা বাধ্যতামূলক হলেও তাদের প্রতিষ্ঠানে নেই বলে জানান। অপরদিকে উপজেলার লক্ষীপুর খায়রুল উলুম ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক, মির্জাপুর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান ও আলি দেওনা আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এটি এম হারেছ আলী সরকার কম্পিউটার বিষয়ের শিক্ষক সম্পর্কে জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার শিক্ষক মাদ্রাসা বোর্ডের বিধি মোতাবেক নিয়োগ দেয়া হলেও কিছু সমস্যা থেকে যাওয়াটায় স্বাভাবিক । বর্তমান প্রতিষ্ঠানে পুরোনো কম্পিউটার চালানো হয়। তবে দ্রুত নতুন কম্পিউটার নেয়া হবে বলেও জানান। শিক্ষার্থীরা কম্পিউটার বিষয়ে সন’ষ্ট। উপজেলার পাঘা বছির উদ্দীন ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার জালাল উদ্দীন, ফতেপুর রহমানিয়া দাখিল মাদ্রসার সুপার নজরুল ইসলাম ও সোনাকুড়ি মালাহার মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার তৈয়ব আলী জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার বিষয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা নাজুক পর্যায়ে হলেও শিক্ষকেরা অত্যন- অভিজ্ঞ। আগামীতে কম্পিউটার বিষয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়বে বলেও জানান। কম্পিউটার শিক্ষক নিয়োগ বিধি মোতাবেক স্কুল কলেজে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহীদুল হক বলেন, বিধি অনুযায়ী শুধু কম্পিউটার শিক্ষক নিয়োগ নয়, বেসরকারী সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে কোন বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার সকল ক্ষমতা স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির হাতে ন্যস-। তাই ইচ্ছে থাকা সত্বেও কিছু করা তার পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠেনা। #
আরও পড়ুন...
নওগাঁয় শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন বিষয়ক আলোচনা সভা
এন বিএন ডেক্সঃ নওগাঁয় কোভিড-১৯ সময়ে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। …