18 Chaitro 1431 বঙ্গাব্দ বুধবার ২ এপ্রিল ২০২৫
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ »
Home / সারাদেশ / নওগাঁয় জমি বিক্রির নামে প্রতারণার শিকার আব্দুল কুদ্দুস

নওগাঁয় জমি বিক্রির নামে প্রতারণার শিকার আব্দুল কুদ্দুস

এন বিএন ডেক্সঃ খাস জমিকে ব্যক্তি মালিকানাধীন বলে দাবি করে জমি বিক্রির প্রতিশ্রুততে প্রায় ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সদর উপজেলার চকবিরাম গ্রামের বাসিন্দা দুই সহোদরের বিরুদ্ধে। তারা হলেন চকবিরাম গ্রামের আজিজুল হক ও তার ভাই আব্দুল মান্নান। ওই দুই সহোদরের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলে গতকাল বুধবার নওগাঁর একটি রেস্টুরেন্ট মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন আব্দুস কুদ্দুস নামের এক ব্যক্তি।

প্রতারনার শিকার নওগাঁ মডেল টাউন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল কুদ্দুস প্রতিকার চেয়ে ওই দুই সহোদর ভাইয়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, নওগাঁ শহরের চকপাথুরিয়া ও চকবিরাম মৌজায় কিছু নিচু জমি নিয়ে ২০১৬সাল থেকে আধুনিক মানের আবাসন গড়ে তোলার কাজ করছে নওগাঁ মডেল টাউন। ইতোমধ্যেই ৭৫টি প্লটে মাটি ভরাট ও উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ৬৮ টি প্লট বিক্রি হয়েছে। কয়েক জন বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন।

তিনি বলেন, প্রকল্পের দক্ষিণ প্রান্তে বাস টার্মিনাল ও নওগাঁ-মহাদেবপুর সড়কের সঙ্গে আবাসনে চলাচলের জন্য ৪০ ফুট প্রশস্ত রাস্তা সংযুক্ত আছে। কিন্তু ২০১৭সালে চকবিরাম মহল্লার আজিজুল হক ও তার ভাই আব্দুল মান্নান সেই রাস্তার মালিকানা দাবি করেন। পরবর্তীতে তারা জমির ৮০ খতিয়ানের ২৮৪দাগের কাগজমূলে প্রকল্পের রাস্তা বরাবররে তাদের জমি রয়েছে বলে তারা দাবি করেন। দাবির প্রেক্ষিতে প্রায় ৬ বছর আগে ২কাঠা জমি বিক্রির শর্তে একটি চুক্তিনামার মাধ্যমে ২৯লাখ ৯৯হাজার টাকা তারা গ্রহণ করেন। কিন্তু প্রায় ৬বছর অতিবাহিত হলেও উক্ত জমি রেজিষ্ট্রী করে দেন নাই তারা। এখন টাকা ফেরত চাইতে গেলে বিভিন্ন ওজর-আপত্তি, তালবাহানা ও কালক্ষেপনসহ প্রতারণার আশ্রয় নেয় আজিজুল ও আব্দুল মান্নান। তারা একাধিকবার মধ্যরাতে মডেল টাউনের প্রবেশ পথে অবৈধভাবে ইটের প্রাচীর নির্মাণ করার চেষ্টা করে প্রকল্পের সুনাম ক্ষুন্ন করার অপতৎপরতা চালায়। টাকা ফেরত না দিয়ে সামাজিকভাবে হেয় করার মানসে দুষ্কৃতকারীদের ছত্রছায়ায় তারা নানা তৎপরতা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্য আব্দুল মান্নান আরও বলেন, জমির মালিকানা নিয়ে সন্দেহে হওয়ায় কাগজপত্র পর্যালোচনা করে জানতে পারেন যে, চুক্তিনামা অনুযায়ী জমির ৮০নম্বর খতিয়ানের ২৮৪নম্বর দাগের দালিলিক কাগজপত্র মূলে তাদের দাবিকৃত ২কাঠা জমির কোন মালিকানা নেই। যৎসামান্য জমি যা ছিল সেটাও ভূমি অফিস ইতোমধ্যেই তার খারিজ বাতিল করেছেন। অথচ ওই সম্পত্তি সেই জমি বেআইনীভাবে দখলে নিয়ে আজিজুল ও মান্নান নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। বর্তমান বিষয়টি জানাজানি হলে নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে তারা নওগাঁ মডেল টাউন প্রকল্পের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ছড়াচ্ছে। এমতাবস্থায় তাদের কাছ থেকে প্রায় ৩০লাখ টাকা উদ্ধারে আমি দিশেহারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আজিজুল ইসলাম বলেন, ক্রয় সূত্রে আমরা ওই জমি ভোগ দখল করে আসছি। কোন খাস জমি আমরা দখল করছি না। জমির খারিজ সংক্রান্ত জটিলতা ও পারিবারিক সম্পত্তির বিষয়ে বাটোয়ারা মামলা থাকায় চুক্তিপত্র অনুযায়ী ক্রেতাকে জমি রেজিষ্ট্রী করে দিতে পারছি না।

সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ৮০নম্বর খতিয়ানের ২৮৪ দাগে ১৮ শতক জমি উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেখানে জমি রয়েছে ৩২ শতক। এই ৩২ শতকের মধ্যে ১৪ শতক জমি খাস খতিয়ানভুক্ত। এই অবস্থায় গত ২৩ মে জমি উদ্ধার করতে গিয়ে অবৈধ দখলকারীদের মারমুখী আচরনের কারণে বাধ্য হয়ে ফিরে আসতে হয়েছে। এছাড়া এসব জমি নিয়ে ওই এলাকায় একাধিক মামলা চলমান রয়েছে এবং ১৯টি দলিল সৃজন করা হয়েছে। ওইসব দলিলের ইতিমধ্যেই খারিজ বাতিল করা হয়েছে এবং দলিল বাতিলের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আরও পড়ুন...

বিএনপি জনগণের দল, জনগণই বিএনপির শক্তি

নওগাঁ প্রতিনিধি: আব্দুস সালাম বলেন, ‘বিএনপি জনগণের দল। জনগণই বিএনপির শক্তি। আওয়ামী লীগও অনেক বড় …