এনবিএনডেক্স : স্বাধীনতার ৪৪ বছর পরও পাক-হানাদার বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে নিহত স্বাধীনতাকামী মানুষের গণকবর ও বধ্যভূমিগুলো আজও অবহেলিত। গণকবরগুলো সঠিকভাবে সংরণের ব্যবস্থা না নিলে কালের আবর্তে এক দিন দেশের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। এলাকাবাসী এসব গণকবর ও বধ্যভূমিগুলো যথাযথভাবে সংরণের জোর দাবি জানিয়েছেন। নওগাঁ জেলা সদর থেকে ৫৬ কিলোমিটার উত্তরে ভারতের কোল ঘেঁষে ধামইরহাট উপজেলার অবস্থান। স্বাধীনতা যুদ্ধে জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে পাক বাহিনী তাদেরকে সহযোগিতা করার জন্য রাজাকার, আল সামস ও আলবদর বাহিনী গঠন করে এলাকার মুক্তিকামী জনসাধারণকে নির্মম নির্যাতন চালায়। এসব বাহিনী কর্তৃক গণ নির্যাতনের ফলে এলাকার নিরীহ মানুষকে হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকলে গ্রামবাসী দলে দলে প্রাণভয়ে উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত পথ পাড়ি দিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়। এছাড়া এ পথ দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকজন ভারতে প্রশিণ নেয়ার জন্য আশ্রয় নিয়েছিল। তাই পাক-হানাদার বাহিনী মুক্তি বাহিনীকে দেশে ঢুকতে না দিতে এবং দেশ থেকে ভারতে আশ্রয় ঠেকাতে এ উপজেলার ফার্শিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও জমিদার বাড়ির পরিত্যক্ত অংশে সেনা ক্যান্টনমেন্ট গড়ে তোলে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের শেষ দিকে। হানাদার বাহিনীর সাথে এ দেশীয় রাজাকার,আল সামস ও আল বদর বাহিনী যোগ দিয়ে ব্যাপক নির্যাতন অগ্নিসংযোগ, নারীর ইজ্জত হরণসহ গণহত্যা চালিয়ে যায়। যদিও এ উপজেলা হানাদার বাহিনীর হাত থেকে মুক্ত হয় ১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর। কিন্তু তাদের নির্মম অত্যাচার এবং মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্দেহে নিরীহ গ্রামবাসীদের ধরে এনে গুলি করে হত্যা করা হয় নির্বিচারে। অনেক লাশের পরিচয় না পাওয়ায় প্রধান সড়কের ধারে এবং ক্যান্টনমেন্টের আশপাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়। অনেক লাশ শিয়াল-কুকুরের পেটে যায়। গন্ধে ওই এলাকার আশপাশের বাতাস বিষাক্ত হয়ে ওঠেছিল। এসব হত্যার নজির ফার্শিপাড়া গ্রামের দণি ধারে দু’টি এবং উত্তরে বেশ কয়টি গণকবর রয়েছে। অন্যদিকে উপজেলার সীমান্তবর্তী কুলফৎপুর গ্রামের ১৪ জনকে একই দিনে কুলফৎপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করা হয়। এই নির্মম ও বর্বরোচিত হত্যার পর তাদের লাশ যত্রতত্র পড়ে থাকলেও গ্রামবাসীর পাক সেনাদের সকল ভয়ভীতিতে উপো করে লাশগুলোর উদ্বার করে কোন রকমে মাটিচাপা দেয়। এস্থানটিতে উমার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প থেকে পাক বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে নিহত ১৪ জনের একটি নাম ফলন স্থাপন করা ছাড়া আর কিছুই করা হয়নি। অন্যদিকে এ উপজেলার পাগল দেওয়ান মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় নওগাঁ ও জয়পুরহাট জেলার সবচেয়ে বড় বধ্যভূমির স্মৃতি চিহ্ন আজও মুছে যায়নি। গণকবর ও বধ্যভূমিগুলো আজ গোচারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ ৪৪ বছরে এগুলোর স্মৃতি ধরে রাখার কোন পদপে নেয়া হয়নি সরকারিভাবে। খোঁজ নেয়া হয়নি মুক্তিযুদ্ধের সপরে নিহত মানুষগুলোর অসহায় পরিবারগুলোর হাল হকিকত। প্রত্যন্ত অঞ্চলের এসব হত্যাকান্ডের কে কার খোঁজ রাখে? তাই নীরবে নিভৃতে গণকবর ও বধ্যভূমিগুলোর স্মৃতি চিহ্ন দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে ধামইরহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার হোসেন আহমেদ বলেন, যে সব তাজা প্রাণ স্বাধীনতার জন্য বুকের রক্ত দিয়েছে তাদের স্মৃতি রার্থে সরকারের প থেকে সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এলাকাবাসীর দাবি এসব বধ্যভূমি ও গণকবরগুলো সরকারিভাবে সংরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নচেৎ এক সময় নতুন প্রজন্ম তাদের প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতার যুদ্ধে বীর শহীদদের সম্পর্কে কোন ধারণা থাকবে না।
ট্যাগFeatured
আরও পড়ুন...
নওগাঁয় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৩তম প্রয়ান দিবস পালিত হয়েছে
এনবিএন ডেক্সঃ জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদ নওগাঁ জেলা শাখার উদ্যোগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল …