22 Chaitro 1431 বঙ্গাব্দ শনিবার ৫ এপ্রিল ২০২৫
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ »
Home / ক্রাইম নিউজ / ঘাতক স্বামী গ্রেফতার নওগাঁর সাপাহারে বিষাক্ত ইনজেকশান দিয়ে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ!!

ঘাতক স্বামী গ্রেফতার নওগাঁর সাপাহারে বিষাক্ত ইনজেকশান দিয়ে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ!!

এনবিএনডেক্স: নওগাঁর সাপাহার উপজেলার উমইল হাট খোলায় মোঃ হাবিবুলাহ পলাশ নামের এক গ্রাম ডাক্তারের বিরুদ্ধে বিষাক্ত ইনজেকশান দিয়ে নিজ স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ গতকাল শুক্রবার দিবাগত মধ্য রাতে অভিযান চালিয়ে নিহত গৃহবধু খালেদা আক্তার (২৪) এর লাশ উদ্ধার সহ ঘাতক স্বামীকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। এলাকাবাসী সুত্রে জানাগেছে উমইল হাট এলাকার বাসিন্দা ও উমইল বাজারের জেরিন ফার্মেসীর মালিক গ্রাম্য ডাঃ মোঃ হাবিবুলাহ পলাশ প্রায় ৫ বছর পুর্বে পার্শ্ববর্তী জবাই গ্রামের হতদরিদ্্র আবুল কালাম ওরফে কালীমোলা দোকানীর কন্যা কলেজ ছাত্রী খালেদা আক্তার কে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে সময়ে অসময়ে খালেদার দরিদ্র পিতা মাতার নিকট থেকে বিভিন্ন প্রকার যৌতুক দাবী করে আসছিল। তার চাহিদা পুরণ করতে না পারায় প্রায় সময় তাদের দাম্পত্য জীবনে বিবাদ লেগে থাকতো। এক পর্যায় তাদের ঘর আলো করে জেরিণ রায়হান নামের একটি কণ্যা শিশুর জন্ম গ্রহণ করে। শিশুটির বর্তমান বয়স সাড়ে ৩ বছর। এর পর খালেদার গর্ভে পুত্র সন্তান না হওয়ায় তার উপর নির্যাতনের মাত্রা দিনে দিনে বাড়তে থাকে। অতি কষ্টে নিজের ভাগ্যর নির্মম পরিহাস মনে করে সকল কষ্ট কে বরণ করে স্বামীর সংসার আঁকড়ে পড়ে থাকে গৃহবধূ খালেদা আক্তার। শ্বশুর  বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য বেশ কয়েকবার বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা চালায় স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন। নিহত খালেদার পরিবারের লোকজন জানান গত ২৮ জুন স্বামী পলাশ খালেদাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ম্যাংগো জুসের সঙ্গে বিষাক্ত মেডিসিন খাওয়ায়। পরে সংবাদ পেয়ে খালেদার পরিবারের লোকজন স্বামীর বাড়ী থেকে মুমূর্ষ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সাপাহার হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পর দিন আশংকাজণক অবস্থায় খালেদাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে  ভর্তি করায়। সেখানে দীর্ঘ চিকিৎসার পর তার জ্ঞান ফিরে পায় ও পাশে ঘাতক স্বামীকে দেখে চিৎকার করে তাকে হত্যা চেষ্টার কথা প্রকাশ করে। অবস্থা বেগতিক দেখে অসুস্থ্য স্ত্রীকে ফেলে চতুর পলাশ সেদিন শিশু কন্যা কে সাথে নিয়ে সবার অগোচরে রাজশাহী হাসপাতাল হতে পালিয়ে আসে। গৃহবধু খালেদা সুস্থ্য হয়ে দরিদ্র পিতার বাড়ীতে অবস্থান নেয়। এ ঘটনার বেশ কিছুদিন পর গ্রামের গন্যমান্য লোকজনের সহায়তায় পলাশ  নিজের দোষ স্বীকার করে আবার খালেদাকে নিজ বাড়ীতে নিয়ে আস্।ে দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ার কারনে সংসারে স্বামী,শ্বাশুড়ী, ননদ, দেবর কেউ থাকে ভাল চোখে দেখতনা। ঘটনার দিন গত শুক্রবার রাত প্রায় ১০টার দিকে স্বামীর বাড়ীতে রহস্য জনক ভাবে গৃহবধূ খালেদা আক্তারের মৃত্যু হয়। পরে বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসে ও তাদের মেয়েকে পরিকল্পিত ভাবে আবারো বিষাক্ত ইনজেকশান পুশ করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে। সংবাদ পেয়ে রাতেই সাপাহার থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাহিদুর রহমান চৌধুরী ঘটনাস্থলে পৌছে নিহত গৃহবধুর লাশ উদ্ধার সহ ঘাতক স্বামী ডাঃ হাবিবুলাহ পলাশ কে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসেন এবং ময়না তদন্তের জন্য লাম নওগাঁ সদর হাসপাতালে  প্রেরণ করে। এ বিষয়ে এস আই শাহীন রেজা জানান নিহত গৃহবধুর বাম হাতে ইনজেকশান পুশ করার দাগ ও কোমরের নিচে আঘাতের দাগ রয়েছে। গৃহবধূর লাশের ময়না তদন্ত রিপোর্ট আসলেই তার মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে। এ দিকে ঘটনাটা ধামা চাপা দিতে প্রভাবশালী একটি মহল জোর চেষ্টা চালিয়ে আসছে বলেও নিহতের আতœীয় স্বজনরা দাবী করেছে।

আরও পড়ুন...

নওগাঁয় তরুণকে অপহরণ চেষ্টা, আটক ২

নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর মান্দায় এক তরুণকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন দুই …