22 Chaitro 1431 বঙ্গাব্দ শনিবার ৫ এপ্রিল ২০২৫
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ »
Home / কৃষি সংবাদ / গুরুদাসপুরের মাসিদুল গাছের ফেরিওয়ালা

গুরুদাসপুরের মাসিদুল গাছের ফেরিওয়ালা

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি :

তিন চাকার একটি রিকসাভ্যান। তার পরও মাটির পাত্রে (টব) বসানো আম্রপালি, ফজলি, দেশী ফজলি, খেরসাপাত, আশ্বিনা, মিশ্রিদানা ও লোকনাথ জাতের আমের চারা। থোকায় থোকায় আম ধরে রয়েছে চারা গাছগুলোতে। ঘুরছে এ-গলি,ও-গলিতে। গাছের ওই ফেরীওলার নাম মাসিদুল ইসলাম (৪০)। নাটোরের গুরুদাসপুর পৌরসভার চাঁচকৈড় কাচারীপাড়া মহল্লায় তার বাস। জীবন-জীবিকার তাগিদে তিনি বেছে নিয়েছেন অভিনব পদ্ধতিতে গাছ বিক্রির পেশা। সেটা চলছে গত তিন বছর ধরে।
ঋণের দেড়হাজার টাকায় শুরু। বগুড়ার ‘সাথী-সবুজ নার্সারী’ থেকে নানা প্রজাতির চারা গাছ কিনে এনে ওই ব্যবসা শুরু করেন। এতে ভালোই লাভবান হতে থাকেন মাসিদুল। সময়ের ব্যবধানে তিনি নিজেই নার্সারী শুরু করেন। কলম পদ্ধতিতে চারা রোপণ-পরিচর্যার মাধ্যমে জমজমাট হতে থাকে তার গাছের ব্যবসা। এখন নার্সারীতে তার দুই হাজারের অধিক চারা গাছ রয়েছে। বর্ষাকে ঘিরে তিনি নিজেই এসব গাছ ফেরী করে বেড়ান। স্ত্রী-সন্তানরা তার একাজে সহায়তা করে থাকেন। আকার ও প্রকারভেদে প্রতিটি চারা গাছ ১৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে। অনেকে খুচরা ওপাইকারী দামে নার্সারী থেকেও কিনে নিয়ে যায়। বছরে ৭-৮ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় হয়। একারণে সংসারে অভাব নেই। মাসিদুল জানান, এক সময় বাঁশের চাটাই বুননের কাজ করে সংসার চলতো। কিন্তু অভাব ঘুঁচেনি চার সদস্যের সংসারে। পরে স্ত্রী আরিফা বেগমের মাধ্যমে একটি এনজিও থেকে ঋণ উত্তোলন করে ওই ব্যবসা শুরু করে তার আর্থিক পরিবর্তন হয়েছে। আগামীতে বড় ধরনের নার্সারী করার চিন্তা রয়েছে তার। মাসিদুল বলেন, শুধু যে টাকার জন্যই তিনি গাছ ফেরী করে ফেরেন তা নয়, গাছ সৌন্দর্য্য-দেশের উন্নয়ন, পরিবেশ রক্ষা, ফল, টাকা সবই আসে এ পেশা থেকে। এ কারণে এ পেশার প্রতি দরদ, মমত্ববোধ জন্মেছে। রয়েছে প্রকৃতির আশীর্বাদ। মাসিদুলের স্ত্রী মোছা. আরিফা বেগম বলেন, গাছ বিক্রির টাকা থেকে তাদের সংসারে অভাব দূর হয়েছে। দুই ছেলে আর এক মেয়ে নিয়ে সুখেই কাটছে তাদের দিন।

আরও পড়ুন...

নওগাঁর রাণীনগরে অভিযানে কারেন্ট-রিং জাল জব্দ ॥ জরিমানা আদায়

এনবিএন ডেক্সঃ নওগাঁর রাণীনগরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ কারেন্ট ও রিং জাল দিয়ে …