এনবিএন ডেক্সঃ
ঈশ্বরদী উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়নের জয়নগর হাজী পাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল গণি প্রামানিকের ছেলে মোঃ আব্দুস সবুর। কৃষি কাজ করে তিনি সংসারের সমস্ত খরচ বহন করেন। একমাত্র কৃষিই তার প্রধান পেশা। দীর্ঘ দিন থেকে তিনি লিচু চাষ করে আসছেন। লিচু চাষের পাশাপাশি তিনি লিচুর ব্যবসা করে থাকেন। ৬ বোন ও এক ভাই। বাবা মারা যাওয়ার পর সংসারের সমস্ত দায়িত্ব তার উপর বর্তায়। তিনি বিকম পাশ করে কৃষি কাজে মনোনিবেশ করেন। তিনি বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি কৃষি কাজে মনোনিবেশ করেছেন। তার নিজের পৈতৃক সম্পত্তি রয়েছে ১২ বিঘা। এই ১২ বিঘা জমিতে ২০০টি লিচু গাছ রোপন করেছেন। তার খামার পরিদর্শনে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার মানুষ আসেন। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তাকে সঠিক পরামর্শ ও সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে থাকেন। আগামীতে খামারটি আরও প্রসারিত করতে চান। সবুরের লিচু বাগানে এবার ব্যাপক ফলন হয়েছে। সেই সাথে লিচু আকারে বড় এবং মূল্যও পেয়েছেন গতবারের চেয়ে বেশি। এবার তার খামারের ২০ লক্ষ টাকার লিচু বিক্রয় করেছেন বলে তিনি জানান। সবুর বলেন, আমার লিচু বাগান থেকে দয়রামপুর সেনাবাহিনীর একটি দল লিচু কিনে তা কুয়েতের রাষ্ট্র প্রধানের কাছে পাঠিয়েছেন।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত কৃষক ও বাংলাদেশ কৃষক উন্নয়ন সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিদ্দিকুর রহমান ময়েজ বলেন, অব্যাহত খরা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবছর ঈশ্বরদীতে লিচুর ফলন বিপর্যয় ঘটেছে। উচ্চ তাপমাত্রার ফলে লিচু গাছেই ফেঁটে বিক্রির অযোগ্য হয়ে পড়ছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বৃষ্টি না হওয়ায় এ অবস্থা বিরাজ করছে। লিচু চাষ করে উপজেলার কৃষকদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। সবুরের লিচু বাগান পরিদর্শন করে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। ঈশ্বরদীর সেরা লিচু এখন কৃষক সবুরের বাগানে। সঠিক ভাবে পরিচর্যার কারণে সবুরের গাছের লিচু পরিমাণে বড়, রং ও সুন্দর হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঈশ্বরদীতে একটি আধুনিক হিমাগার থাকলে এই লিচু সারা বছর রেখে বিক্রি করা যাবে। এতে কৃষকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ খুরশিদ আলম জানান, এ বছর ঈশ্বরদীতে ২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হলেও বৈরী আবহাওয়া ও উচ্চ তাপমাত্রার জন্য ফলন অর্ধেকে নেমে এসেছে। অনেক চাষির লিচু উচ্চ তাপমাত্রায় পুড়ে যাচ্ছে এবং ফেঁটে যাচ্ছে। উপজেলার অন্য লিচু বাগানের চাইতে সবুরের বাগানের গাছে প্রচুর লিচু এসেছে। একই সাথে লিচু আকারে বড়, দেখতে সুন্দর খেতেও সুস্বাদু, রং টকটকে লাল। তিনি জানান, কৃষক সবুর কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে বোরণ, পটাশ সার প্রয়োগ করেছেন এবং পানি ছিটিয়ে কৃত্রিম বৃষ্টি সৃষ্টি করে গুটিসহ লিচুগাছ ভিজিয়ে দেয়ার কারণে তার লিচু বাগানে কোন প্রকার ক্ষতি হয়নি বরং ফলন ভালো হয়েছে।