22 Chaitro 1431 বঙ্গাব্দ শনিবার ৫ এপ্রিল ২০২৫
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ »
Home / ক্রাইম নিউজ / নওগাঁর মান্দায় শিবকালী মন্দিরের জায়গা দখল করে ইউপি চেয়ারম্যানের ব্যাক্তিগত অফিস নির্মানের অভিযোগ!!

নওগাঁর মান্দায় শিবকালী মন্দিরের জায়গা দখল করে ইউপি চেয়ারম্যানের ব্যাক্তিগত অফিস নির্মানের অভিযোগ!!

এনবিএন ডেক্সঃ নওগাঁর মান্দা উপজেলার কাশোপাড়া ইউনিয়নের সিংগি বাজারের শিবকালী মন্দিরের জায়গা দখল করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গণশৌচগারের নামে ব্যক্তিগত অফিস ঘর নির্মান করছেন। এলাকাবাসী প্রতিবাদ করেও কোন ফল হচ্ছ না। এনিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্ঠি হযেছে। এদিকে চেয়ারম্যান ও তার লোকজন উল্টো হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর দোষ চাপিয়ে প্রচার করছেন এখানে কোন মন্দির নেই, মুসলমানদের নির্মান করা ইটের ঘরে প্রতিমা রেখে তারা সাম্প্রদায়িকতার সৃষ্ঠি করছে। সরজমিন ওই বাজার ঘুরে দেখা গেছে স্থানীয় ইউপি চেযারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াদ আলী মন্ডল বাজারের মাঝখানে প্রাচীন একটি পাকুড়গাছকে ঘিরে তিনি সংযুক্ত বাথরুমসহ ব্যাক্তিগত চেম্বার নির্মাণ করছেন। একইসাথে তিনি চেম্বারের সাথে লাগানো বাহিরের দিক দিয়ে জনসাধারণের যাতাযাতের জন্য ছোট্ট একটি টয়লেট নির্মাণ শুরু করা হয়েছে। আর সেটার নাম দেযা হচ্ছে গণশৌচাগার। সিংগি বাজারের শিবকালী মন্দির কমিটির সভাপতি পিতাম্বর কবিরাজ,সদস্য ভবেন্দ্র নাথ সাহা,নিপেন্দ্রনাথ সাহা,বজেন্দ্রনাথ সরকার ও হাট কমিটির সদস্য আব্দুল কুদ্দুস অভিযোগ করে বলেন ১৯২০ ও ৬২ সালের রেকর্ড অনুযায়ী বাজারের ৭৪ শতক জমি হিন্দু সম্প্রদায়সহ সকলের ব্যবহারের জন্য দেবোত্তর সম্পত্তি হিসাবে উল্লেখ আছে। ১৯৭২ সালে দেবোত্তর সম্পত্তি সরকারী খাস খতিয়ানে সিংগি হাটের নামে রেকর্ড কওে নেওয়া হয়। এর আগে থেকেই ওই সম্পত্তির উপরের বাজারের মাঝখানে পাইকড় গাছের নিচে কালী প্রতিমা রেখে এলাকার কয়েক গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন পূজা-অর্চনা করে আসছে। এনিয়ে মন্দির কমিটির লোকজন রেকর্ড সংশোধনের জেলা প্রশাসক,উপজেলা ভ’মি কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তাকে বিবাদী করে নওগাঁ আদালতে দায়েরকৃত মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। এই অবস্থায় কাশোপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান হাটের উন্নয়নের কথা বলে সেখানে গণশৌচাগার নির্মানের নামে ব্যাক্তি চেম্বার নির্মান শুরু করেছেন। ই্উনিয়ন পরিষদের অর্থ দিয়ে বাস্তবায়ধীন প্রকল্পটি ইতিমধ্যে চেয়ারম্যান উপজেলা পরিষদ থেকে অনুমোদনও কওে নিয়েছেন। শুধু তাই নয় মন্দির সংলগ্ন গণশৌচাগার কতটা যুক্তিযুক্ত এবং মন্দিরের পবিত্রতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ও এলাকাবাসী। স্থানীয় মেলা কমিটির নেতা সাইদুজ্জামান সোহান বলেন শুধু চেয়ারম্যানের নয়,হাটকে ঘিরে যে যেখানে পারছে হাটের জায়গা ইচ্ছামত দখল করে নিচ্ছেন। এসব অবৈধ দখল অবিলম্বে উদ্ধার করা উচিত। আবার স্থানীয় অনেকেই বলছেন হাটের মাঝখানে একটি টয়লেট দিয়ে গণশৌচাগার কেন,পাশেই মসজিদ আছে সেখানে করতে অসুবিধা কোথায়। এদিকে চেয়ারম্যানের ভাই খয়বর আলী বলেন পাইকড় গাছের নিচে আমার দোকান ঘরের মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন জোর করে কালী প্রতিমা রেখে পূজা অর্চনা করছেন। তবে মন্দির কমিটির সভাপতি পিতাম্বর এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন গাছের নিচে চেয়ারম্যান ঘর নির্মান করছেন। তাই তার কথামত সেখানে প্রতিমা রাখা হয়েছে। এদিকে এব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াদ আলী মন্ডল বলেন আমি কোন মন্দিরের জায়গা দখল করে ঘর নির্মান করছি না। জনসাধারনের ব্যবহারের জন্য প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই সেখানে গণশৌচাগার নির্মান করা হচ্ছে। বরং হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন মুসলমানদের তৈরী করা ইটের ঘরে কালী প্রতিমা রেখে সাম্প্রদায়িকতার উষ্কানী দিয়ে তারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্ঠা করছে। এব্যাপারে মান্দা উপজেলা ভুমি অফিসের সহকারী কমিশনার সাদেকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তে ইউপি চেযারম্যান সেখানে ব্যাক্তিগত অফিস ঘর নির্মান করার প্রমান পাওয়া গেছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বিষয়টি উর্দ্ধতন মহলকে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন...

নওগাঁয় তরুণকে অপহরণ চেষ্টা, আটক ২

নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর মান্দায় এক তরুণকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন দুই …