22 Chaitro 1431 বঙ্গাব্দ শনিবার ৫ এপ্রিল ২০২৫
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ »
Home / কৃষি সংবাদ / পিরোজপুরের নাজিরপুরে তরমুজের বাম্পার ফলনঃ উৎসবের আমেজ কৃষকের ঘরে

পিরোজপুরের নাজিরপুরে তরমুজের বাম্পার ফলনঃ উৎসবের আমেজ কৃষকের ঘরে

পিরোজপুর প্রতিনিধিঃ নাজিরপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ বছর কোন প্রকার বৈরী আবহাওয়া বা রোগ বালাইয়ের সম্মুখীন হতে হয়নি তরমুজ চাষীদের। ফলে ফলন যেমন ভালো হয়েছে তেমনি বাজারে চাহিদা থাকায় দামও ভালো। তাই তরমুজ চাষীদের ঘরে ঘরে এখন উৎসবের আমেজ। উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এবছর নাজিরপুরের শেখমাটিয়া ইউনিয়নের বলেশ্বর নদের তীরবর্তী রঘুনাথপুর ও চররঘুনাথপুর অঞ্চলের ৪শ’ হেক্টর জমিতে ওয়াল্ডাকুইন, কিংকোবরা, ব্লাকডায়মন্ড, উইনার ও রিসপ্ররো জাতের তরমুজ চাষ হয়েছে। নাজিরপুরের তরমুজ চাষের প্রসার ঘটাতে মোট চাষ হওয়া জমির মধ্যে ১ হাজার একর জমির বিপরীতে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন ক্ষুদ্র তরমুজ চাষীকে একর প্রতি ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ করে প্রতি একরে ১ লক্ষ ২০ হাজার থেকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বিক্রী করে। ইতিমধ্যে এ অঞ্চলটি তরমুজ পল্ল্লী হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে। এব্যাপারে তরমুজ চাষী মোঃ ইলিয়াছ, লিটন মজুমদার ও ডালিম শেখ জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের সহোযোগিতায় ভাল বীজ ও চাষাবাদে সু পরার্মশ দেয়ায় এবারের তরমুজে ফলন খুবই ভাল হয়েছে আমাদের কোনরকম বিপদে পরতে হয়নি। এব্যাপরে উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ননী গোপাল মজুমদার এর সংঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ বছর প্রতি হেক্টর জমিতে ৫০ থেকে ৬০ মেট্রিক টন তরমুজ উৎপাদিত হয়েছে তিনি আরও জানান যে গুটি ইউরিয়া ব্যবহার করায় চাষিদের খরচ কম হয়েছে এবং লাভের পরিমানও বেশি হয়েছে। অন্য বছরের তুলনায় ফলন যেমন ভালো হয়েছে তেমনি ভালো দামও পেয়েছেন চাষীরা। সরেজমিন ঘুরে দেখাগেছে, তরমুজ খেতে বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকারিদের আনাগোনা। ইতিমধ্যে চাষ হওয়া তরমুজ ক্ষেতের প্রায় ৮০ ভাগ তরমুজ বিক্রী হয়ে গেছে। বাকি তরমুজও ক্ষেতের বুক জুরে সুয়ে আছে বিক্রীর অপেক্ষায়। তরমুজের পাশাপাশি ফুটি, করল্লা, টমেটু, ঢেঢ়ষের চাষও করেছেন অনেক কৃষকেরা। সকল চাষীদের চোখে মুখে খুশীর ঝিলিক। এ সব ক্ষেতের তরমুজ ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম, সিলেট, যশোর সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকারী ও খুচরা ব্যবসায়ীরা দর দাম করে ক্ষেত মূলে তরমুজ ক্রয় করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণীর পেশার লোকজন আসছেন তরমুজ ক্ষেত দেখতে। বামপার ফলনের তরমুজ ক্ষেত দেখে তারা যেমন অভিভূত হয়ে তরমুজ চাষীদের উৎসাহ যোগাচ্ছেন অতিথি পরায়ন তরমুজ চাষীরাও ক্ষেতে বসেই গাছপাকা তরমুজ দিয়ে আপ্যায়ন করছেন অতিথিদেরকে। তরমুজ বিকিকিনি পর্যবেক্ষণে দেখা যায় ফলন ভেদে এক শতাংশ ক্ষেতের তরমুজ বিক্রী হচ্ছে এক থেকে দের হাজার টাকায়। চাষীরাও জানিয়েছেন, শ্রম বাদে এক শতাংশ জমিতে তরমুজ ফলাতে বীজ, সার ও ঔষধ বাবদ খরচ হয় ১ শ’ ২৫ টাকা । জমির চাষ, সেচ ও ক্ষেত পরিচর্জার কাজ করেন চাষী নিজে তার পরিবারের সদস্যরা। পরুশদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী ছেলে মেয়েরাও শ্রম দেন তরমুজ ক্ষেত পরিচর্জায়। ক্ষেতে তরমুজ পরিপক্ক হওয়ার সময় থেকে বিক্রী পর্যন- রাত জেগে তরমুজ ক্ষেত পাহারা দেন চাষীরা। এ ছাড়া পাইকাড়দের ক্রয়কৃত তরমুজ ক্ষেত থেকে তুলে চাষীরাই সড়ক বা নদীর তীরে সুবিধাজনক স্থানে জড়ো করে দেন জাতে সহজেই তরমুজ ট্রাক বা টালার যোগে নিয়ে যেতে পারেন স্ব স্ব মোকামে। এ কাজের বদলেও চাষীরা পান পারিশ্রমিক। হিসেব মতে চলতি মৌসুমেই নাজিরপুরে পাঁচ শতাধীক তরমুজ চাষীর চাষাবাদের খরচ বাদে তরমুজ বিক্রীতে আয় হবে পাচঁ থেকে ছয় কোটি টাকা। আর হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রমের এ আয় থেকে তরমুজ চাষী পরিবারগুলো ফিরে পাবে আর্থিক স্বচ্ছলতা।

আরও পড়ুন...

নওগাঁর রাণীনগরে অভিযানে কারেন্ট-রিং জাল জব্দ ॥ জরিমানা আদায়

এনবিএন ডেক্সঃ নওগাঁর রাণীনগরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ কারেন্ট ও রিং জাল দিয়ে …