কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার শরফ উদ্দিন মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোহাম্মদ নুরম্নজ্জামান কামিল পাশের জাল সার্টিফিকেটে ২৪ বছর ধরে উক্ত মাদ্রাসায় সুপার পদে চাকুরী করাসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে তদনত্ম সম্পন্ন হয়েছে।
মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি ও অবিভাগকগণ জানান, মোহাম্মদ নুরম্নজ্জামান ১৯৮৭ সালে কামিল পাশের তৃতীয় বিভাগের সার্টিফিকেট দিয়ে শরফ উদ্দিন মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় সহ-সুপার পদে নিয়োগ পান। কিন’ নিয়োগের এক বছরের মাথায় ১৯৮৮ সালে কামিল পাশের তৃতীয় বিভাগের সার্টিফিকেট জালিয়াতির মাধ্যমে দ্বিতীয় বিভাগ করে জাল সার্টিফিকেটের মাধ্যমে সু-কৌশলে ৫ বছরের অভিজ্ঞতা না থাকা সত্বেও সহ-সুপার থেকে সুপার পদে নিয়োগ নেন।
বিষয়টি জানতে পেরে মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটি ও অবিভাবকগণ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা শিড়্গা অফিসার, জেলা প্রশাসক, পরিচালক পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরসহ শিড়্গা মন্ত্রনালয়ে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ করেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ২০০৭ সালে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অভিযোগের সত্যতা প্রমানের জন্য পরীড়্গা নিয়ন্ত্রক, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিড়্গাবোর্ড, ঢাকা বরাবরে উক্ত সুপারের দ্বিতীয় ভিগের আরবী মূল সনদের ছায়ালিপিসহ প্রত্র প্রেরন করেন। প্রত্র প্রাপ্তির পর মাদ্রাসা শিড়্গা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসককে পত্র মারফত অবগত করেন যে নুরম্নজ্জামানের মূল আরবী সনদের ছায়ালিপিতে আছে দ্বিতীয় বিভাগ কিনত্ম বোর্ডের টেবুলেশন বহিতে আছে তৃতীয় বিভাগ। সনদটি সঠিকভাবে যাচাইয়ের জন্য মূল সনদপত্রটি তলব করেন। পরে জেলা প্রশাসক রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে উক্ত মাদ্রাসা থেকে মূল সনদপত্রটি সংগ্রহ করে প্রেরন করার জন্য চিঠি প্রেরন করেন। কিন’ সুপার নুরম্নজ্জামান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মূল সনদটি দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। ফলে বিষয়টি দীর্ঘদিন ধামাচাপা থেকে যায়।
অবশেষে দীর্ঘদিন পর একাধিক অভিাযোগের ভিত্তিতে শিড়্গা পরিদর্শক, পরিদর্শন ও নীরিড়্গা অধিদপ্তর, শিড়্গা মন্ত্রনালয় ঢাকা, প্রধান শিড়্গা পরিদর্শক মজিবুর রহমান ও সহকারী শিড়্গা পরিদর্শক তৈয়বুর রহমানকে ২ সদস্যের কমিটি গঠন করে সরেজমিন পরিদর্শনে পাঠান। উক্ত তদনত্ম টিম গত ২৮এপ্রিল ২০১২ইং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে শরফ উদ্দিন মহিলা দাখিল মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন এবং মাদ্রাসা সুপারকে তার মূল সনদপত্র প্রদর্শন করতে বলে। কিন’ সুপার মূল সনদপত্রটি দেখাতে ব্যর্থ হন।
শিড়্গা পরিদর্শক, পরিদর্শন ও নীরিড়্গা অধিদপ্তর, শিড়্গা মন্ত্রনালয় ঢাকা, প্রধান শিড়্গা পরিদর্শক মজিবুর রহমান এ প্রতিনিধিকে জানান, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে সনদপত্র সংক্রানত্ম বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে তদনত্ম রিপোর্ট জমা দেয়া হবে।
Home / ক্রাইম নিউজ / কুড়িগ্রামে এক সুপারের জাল সার্টিফিকেটে ২৪ বছর চাকুরী অবশেষে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত শুরু
আরও পড়ুন...
নওগাঁয় তরুণকে অপহরণ চেষ্টা, আটক ২
নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর মান্দায় এক তরুণকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন দুই …