21 Chaitro 1431 বঙ্গাব্দ শনিবার ৫ এপ্রিল ২০২৫
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ »
Home / সারাদেশ / ভোলাহাটে ব্যাপক শিলা বৃষ্টি। প্রায় ৪ হাজার একর জমির ধান এবং ৫ হাজার হেক্টর আমফল নষ্ট। ৬০% জমির ধান ও ৭০% আমফলের ফলন না হওয়ার আশংকা।

ভোলাহাটে ব্যাপক শিলা বৃষ্টি। প্রায় ৪ হাজার একর জমির ধান এবং ৫ হাজার হেক্টর আমফল নষ্ট। ৬০% জমির ধান ও ৭০% আমফলের ফলন না হওয়ার আশংকা।

ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ)প্রতিনিধি।
ভোলাহাট উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধানের প্রায় ৬০% এবং আমফলের প্রায় ৭০% ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ১২ শতাধিক টিন-টাইলের ঘর-বাড়ি নষ্ট হয়েছে এবং প্রায় ৫ হাজার একর আম বাগানের ক্ষতি হয়েছে। গত শুক্রবার দিরাগত রাত প্রায় ১১টা থেকে ৩টা পর্যন- বয়ে যাওয়া প্রলয়ংকারী কালবৈশাখী ঝড়ে ভোলাহাট সদর ইউনিয়নের আলালপুর, জোতদুর্ল্লভ, শিকারী, চাঁনপুর এবং গোহালবাড়ী ইউনিয়নের বিলভাতিয়া, জয়গোবিন্দ, খালেআলমপুর, সুরানপুর, গোহালবাড়ী মৌজার প্রায় ৪ হাজার একর ধানক্ষেত নষ্ট হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কৃষক ও গৃহস’ লোকেরা ডুকরে ডুকরে কাঁদতেছিল। ভোলাহাট ইউনিয়নের ১,২,৩নং সংরক্ষিত মহিলা আসনের মেম্বার মোসাঃ সাহেলা বেগম জানান, তাঁর একবিঘা জমির ধান সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়েছে এবং টিনের বাড়িটি ধ্বংস হয়েছে। তিনি জানান, তাঁর নির্বাচনী এলাকার প্রায় ৫০% ঘরবাড়ী, ৪৫% আম গাছ এবং ৯৫% ধানক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। আলালপুর গ্রামের অধিবাসী আব্দুল আজিজ(৪০), মনিরুল ইসলাম(৬৫), একরামুল হক(৪০), তোফাজ্জুল হোসেন(৫০) জানান- অত্র গ্রামের ৩শ টি টাইল এবং ১শ টি টিন সেডের ঘরবাড়ী সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়েছে এবং আম বাগান ও প্রায় ১৭শ একর ধানক্ষেত সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়েছে। শিকারী গ্রামের বদিউজ্জামান বলেন- তাঁর গ্রামে ১শ টি টাইলের ও ১শ ৫০টি টিনের ঘরের ক্ষতি হয়েছে। হাউসপুর গ্রামের আতাউর রহমান (৪৫), সোহরাব হোসেন(৭০) ও রফিকুল ইসলাম(৩৫) জানান, ৭৫টি টাইল ও ৫০টি টিনের ঘর ক্ষতিগ্রস’ হয়েছে। চামুশা গ্রামের মনিরুল ইসলাম(৪৫) জানান, ১শ টি টাইল ও ১শ ৫০টি টিনের ঘর নষ্ট হয়েছে এবং খাড়বাটরা গ্রামের সাবিরুল ইসলাম(৩৭), কুড়ান আলী মন্ডল বলেন, ১শ টি টিন ও ১শ টি টাইলের ঘর নষ্ট হয়েছে। ভোলাহাট ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড মেম্বার সাবেদ আলী, ২নং ওয়ার্ড মেম্বার তাজাম্মুল হক, ৩নং ওয়ার্ড মেম্বার সাইরুল ইসলাম জানান, তাদের এলাকার ধানী জমির প্রায় ৯৫%, টিন টাইলের ঘরবাড়ী ৪০% ও আম বাগানের প্রায় ৬০% ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে এবং প্রায় ২ হাজার একর ধানক্ষেত নষ্ট হয়েছে। বিলভাতিয়া মৌজা থেকে জাতীয় পার্টির সভাপতি আব্দুল মতিন জানান- প্রায় ২ হাজার একর জমির ধান সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়েছে। ভোলাহাট সদর চেয়ারম্যান ইয়াজ দানী আলরাজি জর্জ জনান- প্রায় ৮০% আমফল, ৭০% ধানক্ষেত, ৫০% ঘরবাড়ী আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে বিনষ্ট হয়েছে। ভোলাহাট উপজেলা চেয়ারম্যান বাবর আলী বিশ্বাস জানান, ধানী জমির প্রায় ৯০%, ঘরবাড়ী প্রায় ৪৫%, আম বাগানের প্রায় ৭৫% ক্ষতি সাধিত হয়েছে এবং প্রায় দু’টি ইউনিয়নের ৪ হাজার ৫শ একর ধান ও ২ হাজার ৫শ একর আম বাগান নষ্ট হয়েছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আজিজুল হক জানান, ১৫শ একর ধানী জমির প্রায় ৬০% (আলালপুর, জোতদুর্ল্লভ, শিকারী মৌজার) ধান নষ্ট হয়েছে, আম বাগান প্রায় ৫৫% ও ঘরবাড়ী ৪০% ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আঃ ওয়াদুদ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, উপজেলার প্রায় ৫ হাজার একর আমফলের ও ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার একর ধানক্ষেত নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস’ এলাকাবাসী কাঁন্না জড়িত কণ্ঠে জানায়, প্রায় ১/২ কেজি থেকে ১১/২ কেজি পর্যন- শিলাখন্ড পতিত হওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ বেশী হয়েছে। তারা আরো জানায়, প্রায় দু’যুগের মধ্যে এত বড় শিলা খন্ড পতিত হতে দেখেনি।

আরও পড়ুন...

বিএনপি জনগণের দল, জনগণই বিএনপির শক্তি

নওগাঁ প্রতিনিধি: আব্দুস সালাম বলেন, ‘বিএনপি জনগণের দল। জনগণই বিএনপির শক্তি। আওয়ামী লীগও অনেক বড় …