সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় ভুট্টা চাষে পাল্টেগেছে কৃষকের ভাগ্য, বদলে গেছে অর্থনীতির চিত্র। এক সময় ইরি ,বোরো আর মরিচ চাষের মাধ্যমে উপজেলার কৃষকেরা সুখি-সমৃদ্ধ জীবনের ছবি আঁকলেও গতবার এসব ফসলের ভালো দাম না পেয়ে কৃষকের সে সুখে ছেদ পড়েছে। তখনি লাভ জনক হিসেবে ভুট্টা চাষের দিকে তারা ঝুঁকে পড়ে। এবার তারা আধুনিক পদ্ধতিতে ভুট্টা চাষ করে সফলতার স্বপ্নে বিভোর। ভট্টা চাষে স্বল্প খরচ,কম পরিশ্রম অথচ অধিক মুনাফার কারনে চাষীদের আগ্রহ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি বছরে কাজিপুরের যমুনার পশ্চিম পাড়ে ৬টি ইউনিয়ন সহ যমুনার বিস-ীর্ণ চরাঞ্চলে এবার ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। কাজিপুর উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, এবছর ১হাজার ৬শত ৪০ হেক্টর জমিতে এবার ভুট্টার চাষ হয়েছে যা গতবারের চেয়ে ৩শ হেক্টরেরও বেশী। উৎপাদন লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েছে ১১হাজার ৬শত ২০মেঃটন। উপজেলার মাইজবাড়ী ইউনিয়নের সুতানারা চরের ভুট্টা চাষী আব্দুর রাজ্জাক জানান ১৫বছর ধইরা ভুট্টার আবাদ কইরতাছি এবার বেশি জমিতে নাগাছি যদি ঝড় বাদল আর বান না আইসে তালি পারে দ্বিগুন ফলন পামু। মাইজবাড়ী ইউপির উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ইসফাকুল কবীর এ প্রতিনিধি কে জানান, শুরু থেকে শেষ পর্যন- ১বিঘা ভূট্টার উৎপাদন খরচ পড়ে চার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা। অথচ উৎপাদিত ভূট্টা বিক্রয় করে প্রায় চৌদ্দ থেকে পনের হাজার টাকা আয় হয়। তাছাড়া ভূট্টার কোন কিছুই ফেলনা নয়। এর পাতা পশু খাদ্য, মোচা ও কান্ড জ্বালানী হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ফলে উপজেলার চাষিদের ভূট্টা চাষের দিকে আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। কার্তিকের শেষে ভালোভাবে জমি চাষ করে কিছু সার প্রয়োগ করে জমি ভূট্টা চাষের উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়। বীজ বপনের ১০ থেকে ১৫ দিনের মাথায় চারা গজায়। গাছ ছয় ইঞ্চি পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে চারা সারির দুইপাশে মাটি দিয়ে উচু করে দেয়া হয়। প্রায় ৫ থেকে সাড়ে ৫ মাসের মধ্যে ভূট্টা সংগ্রহ করা যায়।
আরও পড়ুন...
নওগাঁর রাণীনগরে অভিযানে কারেন্ট-রিং জাল জব্দ ॥ জরিমানা আদায়
এনবিএন ডেক্সঃ নওগাঁর রাণীনগরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ কারেন্ট ও রিং জাল দিয়ে …