22 Chaitro 1431 বঙ্গাব্দ শনিবার ৫ এপ্রিল ২০২৫
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ »
Home / শিক্ষা / নানা অনিয়ম ও দূর্নীতিতে চলছে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল এ্যাসিসটেন্ট ট্রেনিং স্কুল

নানা অনিয়ম ও দূর্নীতিতে চলছে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল এ্যাসিসটেন্ট ট্রেনিং স্কুল

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির মধ্যে চলছে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল এ্যাসিসটেন্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস)। যেন দেখার কেউ নাই। এতে ছাত্রছাত্রীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ডা. শচিন্দ্র নাথ বসাক, ক্যাশিয়ার মো. রওশন আলী, হিসাব রক্ষক শ্রী রঞ্জন কুমার পাল ও অফিস সহকারি আমিনুর রহমানসহ একটি সিন্ডিকেট এ অনিয়ম দূর্নীতি করছে। জানা যায়, প্রতি বছর প্রি-সার্ভিসের বরাদ্দকৃত লাখ লাখ টাকার কোন হিসেব নেই। প্রতি বছরে ১০২ করে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা হয় এ স্কুলে। ভর্তি বাবদ জনপ্রতি ৮হাজার ৪শ টাকা করে নেয়া হলেও রশিদে ৮ হাজার করে লিখে দেয়া হয়। প্রতি বছর ছাত্রছাত্রীদের নিকট থেকে ভর্তি বাবদ লাইব্রেরী কশান মানি ৩শ টাকা, ল্যাবরেটরী কশান মানি ২শ টাকা, রেজিষ্ট্রেশন ফি ৩শ টাকা, গেম ফি ৪শ টাকা, হোষ্টেল আনুসংগিক ২হাজার ৫শ টাকা, নবীন বরণ ফি ৪শ টাকা, শিক্ষা সফর ফি ৪শ টাকা ও বিবিধ ৩হাজার টাকা করে নেয়া হয়। কিন’ এসব টাকার কোন হিসেব না দিয়ে তারা ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ১ম, ২য় ও ৩য় বর্ষের কয়েকজন ছাত্রছাত্রী অভিযোগ করে বলেন, এখানে বিনোদনের জন্য খেলাধুলা, নবীন বরণ ও শিক্ষা সফর কোনটাই হয় না। এগুলোর নামে বছরে লাখ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও ম্যানেজমেন্ট তা সঠিক কাজে খরচ না করে আত্বসাৎ করেন। ডাক্তার ও টিউটররা নিয়মিত ক্লাস না নিয়েই বেতন নেন। ছাত্রছাত্রীরা এর প্রতিবাদ করলে তাদেরকে পরীক্ষায় ফেল করানো হবে বলে ভয়ভীতি দেখানো হয়। ৬ জন টিউটরই প্রতিদিন সকালে এসে নাম স্বাক্ষর করেই চলে যান। সারাদিন তাদেরকে পাওয়া যায় না। বছরে ছাত্রছাত্রীদের নিকট থেকে ভর্তি বাবদ ৮লাখ ৫৬ হাজার ৮শ টাকা থেকে ২লাখ ৪ হাজার টাকা স্কুলের খরচ দেখিয়ে অবশিষ্ট ৬লাখ ৫২হাজার ৮শ টাকা ভাগ করে নেন। গত বছর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ থাকাবস’ায় সিনিয়র লেকচারার ডা. আব্দুর রহমান স্কুলের লাখ লাখ টাকা আত্বসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জুনিয়ার লেকচারার ডা. এস. এম মোস-াফিজুর রহমান এখানে যোগদানের দীর্ঘদিন হলেও একদিনের জন্যও ক্লাস নেননি। তিনি কয়েকদিন আগে ঢাকায় বদলি হয়ে গেছেন। সমাপনী পরীক্ষার প্রশংসাপত্র ও সার্টিফিকেট বিনামূল্যে দেয়ার কথা থাকলেও ছাত্রছাত্রীদের নিকট থেকে ৬শ টাকা করে নেয়া হয়। এ টাকা অধ্যক্ষ, ক্যাশিয়ার ও হিসাব রক্ষক ভাগ করে নেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। ক্যাশিয়ার রওশন আলী ও হিসাব রক্ষক শ্রী রঞ্জন কুমার পাল মিলে রেজুলেশন এবং মিটিং ছাড়াই ইচ্ছামতো প্রতিষ্টানের টাকা খরচ করেন । প্রতি বছরে প্রি-সার্ভিসের লাখ লাখ টাকা বরাদ্দ আসলেও তা সঠিকভাবে ব্যবহার না করে হরিলুট করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। মেডিকেল এ্যাসিসটেন্ট ট্রেনিং স্কুলের অধ্যক্ষ ডা. সচিন্দ্র নাথ বসাক বলেন, আমি কয়েক মাস ধরে এখানে যোগদান করেছি। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে ক্যাশিয়ার ও হিসাব রক্ষক এ বিষয়ে সব জানেন। ক্যাশিয়ার মো. রওশন আলী ও হিসাব রক্ষক শ্রী রঞ্জন কুমার পাল বলেন, প্রি-সার্ভিসের সমস- খরচ পরিচালক, চিকিৎসা শিক্ষা, স্বাস’্য অধিদপ্তর ঢাকা নিয়ন্ত্রন করেন। ছাত্র ছাত্রীদের নিকট থেকে ভর্তির সময় রশিদ বিহীন অতিরিক্ত ৪শ টাকা করে নেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, মেডিকেল ফি ৩শ ও মসজিদের জন্য এক শত টাকা করে নেয়া হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম দূর্নীতির কথা অস্বীকার করে তারা বলেন, বিবিধ একাডেমিক কাউন্সিলের মাধ্যমে সমস- খরচ হয় এবং প্রতিষ্ঠানের আয়কৃত সকল টাকা বিবিধ একাউন্ডে জমা করা হয়।

আরও পড়ুন...

নওগাঁয় শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন বিষয়ক আলোচনা সভা

এন বিএন ডেক্সঃ নওগাঁয় কোভিড-১৯ সময়ে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। …