এনবিএন ডেক্স: নওগাঁয় বোরো ধানের পর এবার রোপা আমন ধানের বাজার ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের দখলে চলে গেছে। নওগাঁর হাট গুলোতে আমন ধান ৫ শ থেকে সাড়ে ৫শ টাকা মন দরে ধান বিকাচ্ছে কৃষক। কৃষক বলছে কৃষি উপকরনের দাম বেড়েছে কয়েক দফা কিন্তু ধানের দাম বাড়ছে না । পুরো দমে মাঠের ধান তোলার পর ধানের বাজার আরো কম হওয়ার শংকায় কৃষককের দু:চিন্তা বাড়ছে। সরকারী কোন নজরদারী না থাকায় ধানের দাম নিয়ন্ত্রন করছে ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা। কৃষকরা দাবী করছে নতুন ধানের দাম ন্যুনতম ৮শ থেকে ৯শ টাকা না পেলে উৎপাদন খরচ উঠবে না । বৃহত্তম ধান উৎপাদন কারী জেলা নওগাঁয় চলতি বছর দু লাখ ১০ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষ করা হয়েছে।এবার লক্ষ মাত্রার দশ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে চাষ হয়েছে রোপা আমন ধান। আবহাওয়া অনুকুলে থাকার ফলে এবার জেলায় বাম্পার ফলন হয়েছে বলছে কৃষি বিভাগ। কৃষি বিভাগের মতে এবার ৯ লাখ মেট্রিকটন ধান থেকে সাড়ে ৫ লাখ মেট্রিক টন চাল আসবে।ইতিমধ্য মাঠে চলছে ধান কেটে তোলার ব্যস্ততা । পাকা ধানের গন্ধে কৃষকের মন যেখানে চাংগা থাকার কথা সেখানে ধানের বাজার নিয়ে হতাশ জেলার চাষীরা । ভাল ফলন হলেও কৃষকের উচ্ছাস ভাটা পড়ছে শুধু ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের কারনে। বর্তমান বাজারে চলছে ব্যবসায়ীদের ধান না কেনার অজহাত । তারা বলছে এবার সরকার বিদেশ থেকে চাল আমদানীর ফলে গত অক্টোবর থেকে নওগাঁর আড়ত থেকে চাল বিক্রি কম হয়েছে এর ফলে মজুদ ধান যেমন ধরা রয়েছে তেমন গুদাম গুলোতে পর্যাপ্ত পরিমান চাল রয়ে গেছে। নওগাঁ ধান চাল আড়ত সমিতির সাধারন সম্পাদক মো: আকবর আলী মোল্লা জানান, এবার ব্যবসায়ীরা মজুদ করা চালে লোকসান খেতে হয়েছে ফলে ধান কিনতে মুলধন সংকটে রয়েছে যার কারনে ধানের বাজারে কোন প্রতিযোগিতা নেই। অন্যদিকে সাধারন চাষীদের ক্ষোভ নতুন ধান উঠার শুর্বতে পুরো বাজার নিয়ন্ত্রন করছে নওগাঁর কিছু শীর্ষ চাতাল ব্যবসায়ীরা। তারা ইচ্ছেমত বাজার দর দিয়ে ধান কিনে। জেলায় রয়েছে ছোট বড় প্রায় ১২ শ ধানের চাতাল। আমন মৌসুমে ধান সংগ্রহ করতে বড় ব্যবসায়ীদের পর্যাপ্ত ব্যাংকের সিসি লোন সুবিধা পুর্বে থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে । নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি প্রাইভেট ব্যাংকের নওগাঁ শাখা ব্যবস’াপক জানান, এবার আমন সংগ্রহ লক্ষ নিয়ে ৫০ কোটি টাকার উপরে বিনিয়োগ করবে বিভিন্ন ব্যাংক।এদিকে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রবিউল ইসলাম জানান, এখনো সরকারীভাবে ধান অথবা চাল কেনার সিদ্ধান্ত আসেনি।বিগত বছর সরকার আমন মৌসুমে ধান সংগ্রহ না করার ফলে পুরো বাজার ছিল ব্যবসায়ীদের দখলে।এবার একই অবস’া চলছে বাজারে। নতুন ধান বাজারে আসার পর ৮শ টাকা মন দরের ধানের দাম হয়েছে ৫শ ২০ টাকা থেকে সাড়ে ৫শ টাকা । জেলার ধানের বড় হাট মহাদেবপুর, সাতরা, মাতাজী, ও মহিষ বাথান হাট, আবাদ পুকুর,মধূইলহাট ঘুরে দেখা গেছে নতুন ধান বিকিকিনি হচ্ছে ৫ শ থেকে সাড়ে ৫ শ টাকা মন দরে। কথা হয় মহাদেবপুর হাটে ধান বিকাতে আসা উত্তর গ্রমের সাইদুর রহমান, আব্বাস আলী, মাহবুব আলম সহ একাধিক ক্রেতার সাথে তারা জানান, এবার মৌসুমের মাঝামাঝি তীব্র খড়া এবং কারেন্ট পোকা সহ নানা প্রতিকুলতা মোকাবিল করতে গিয়ে সার, ডিজেল, পানি, লেবার খরচ সহ সব মিলে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে দ্বিগুন হয়েছে ।এক বিঘা পরিমান জমি চাষ করতে খরচ হয়েছে ৪থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা। বিঘাপ্রতি ধান হয়েছে ১২ থেকে সর্বোচ্ছ ১৬ মন সে অনুপাতে বর্তমান বাজার দরে চাষ করা ধান বিক্রি করে কোন মুনাফা আশা করতে পারছে না কৃষক। জেলা কৃষি সমপ্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: আব্বাস আলী জানান, চলতি ধানের বাজার কৃষকের জন্য অনুকুল নয় ধানের বাজার না বাড়লে আগামীতে বোরো চাষে উৎসাহ হারাবে কৃষক। কৃষক দাবী করছে মৌসুমের শুর্বতে সরকারী ভাবে ধান সংগ্রহ করা না হলে গত বছরের মত এবার কৃষক ক্ষতির সম্মক্ষিন হবে ।
আরও পড়ুন...
নওগাঁর রাণীনগরে অভিযানে কারেন্ট-রিং জাল জব্দ ॥ জরিমানা আদায়
এনবিএন ডেক্সঃ নওগাঁর রাণীনগরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ কারেন্ট ও রিং জাল দিয়ে …