পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ সহ দু’ শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ এনেছে জেলা ছাত্রলীগ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তারা সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেন। দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে সদ্য বাধ্যতামূলক ছাড়পত্র পাওয়া ফয়সাল মাহাবুব শুভ।
ফয়সাল মাহাবুব শুভ জানান, দরিদ্র তহবিলের ১লক্ষ টাকা শিক্ষার্থীদের না দিয়ে ভূয়া শিক্ষার্থীদের দিয়ে রেজিস্টার খাতায় স্বাক্ষর করে অধ্যক্ষ গনেশ চন্দ্র অধিকারী, ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সদানন্দ গাইন, বাংলা বিভাগের প্রভাষক কাজী জাহাঙ্গীর আলম তা আত্মসাত করেন। সম্মান ২০১০-১১ সালের ভর্তিতে অবৈধ ও পরিপত্র বহির্ভূত ভাবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যবস’াপনা ফি নামে ১’শ টাকা করে নিয়ে বেশিরভাগ টাকাই আত্মসাত করেন।
২০১০-১১ অর্থ বছরে পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের রাসায়নিক দ্রব্যাদি ও ল্যাবরেটরির মালামাল ক্রয়ের জন্য ২লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং বইপত্র ব্যবহার্য্য দ্রব্যাদি, লিভারেজ, শিক্ষা উপকরণ ক্রয়ের জন্য ২লাখ ৮০ হাজার টাকার ২টি টেন্ডার থেকে টেন্ডার কমিটির আহবায়ক সদানন্দ গাইন এবং অধ্যক্ষ গনেশ চন্দ্র অধিকারী ৪লক্ষ টাকা আত্মসাত করেন। মালামাল না নিয়ে বুঝে পেয়েছি বলে কলেজের রেজিষ্টার খাতায় মালামাল বুঝে পেয়েছি বলে স্বাক্ষর করেন। ফয়সাল মাহাবুব শুভ বলেন, রেজিস্টার খাতায় বিষয়টি খোজ নিলে উক্ত মালামাল পাওয়া যাবে না।
এরপর তিনি (ফয়সাল মাহাবুব শুভ) বলেন, মন্দির সংস্কার বাবদ ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সদানন্দ গাইন ১লক্ষ টাকা আত্মসাত করেছেন। এছাড়া তিনি (সদানন্দ গাইন) ছেলেদের কমনরুম সংস্কার দেখিয়ে ১লাখ ২০হাজার টাকা আত্মসাত করেন।
সম্মান ২০১০-১১ সালের ভর্তি পরীক্ষায় সুমন কর্মকার নামে এক ছাত্র মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দেয়। কিন’ পরীক্ষা খারাপ হলে ভর্তি কমিটির আহবায়ক ও ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সদানন্দ গাইন এবং ভর্তি কমিটির সদস্য ও বাংলা বিভাগের প্রভাষক কাজী জাহাঙ্গীর আলম ২০হাজার টাকার বিনিময়ে সুমন কর্মকারের লেখা খাতা পাল্টে নতুন খাতা দিয়ে ভর্তি পরীক্ষায় পাশ করিয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি করায়।
অধ্যক্ষ গনেশ চন্দ্র অধিকারী তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। এবং বলেন, যাদেরকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে তা নিয়মানুযায়ী দেয়া হয়েছে। এরপর তিনি বলেন, আমি এ কলেজে যোগদানের পর ব্যবস’াপনা ফি নেয়া বন্ধ করেছি। সবশেষে বলেন, ছাড়পত্র দেয়া ফয়সাল মাহাবুব শুভ সহ কয়েকজন কলেজে গেলে আমরা আতংকের মধ্যে থাকি।
ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সদানন্দ গাইনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনটি বাতিল করে দেন।
বাংলা বিভাগের প্রভাষক কাজী জাহাঙ্গীর আলম মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ২০হাজার টাকা নেয়ার বিনিময়ে সুমন কর্মকারকে খাতা পাল্টানোর সুযোগ করে দেয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
ফয়সাল মাহাবুব শুভ বলেন, আমি অধ্যক্ষর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করায় সে আমাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস’া নিয়েছেন।
প্রসংগত গত ২১ নভেম্বর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের ভিপি ও ইংরেজী ৪র্থ বর্ষের ছাত্র ফয়সাল মাহাবুব শুভ, ডিগ্রী ১ম বর্ষের ছাত্র তানভীর মুজিব অভি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষের মোঃ মামুন সিকদার, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃত বিভাগের ২য় বর্ষের আবু হানিফ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ১ম বর্ষের পার্থ সাহা, একাদশ শ্রেনীর মানবিক বিভাগের মোহাইমিনুল ইসলাম কলেজ থেকে বাধ্যতামূলক ছাড়পত্র দেয়া হয়।
Home / সারাদেশ / বরিশাল / পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ অধ্যক্ষ সহ দু’ শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছাত্রলীগের
আরও পড়ুন...
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পরে অসুস’ ২
পিরোজপুর প্রতিনিধিঃ পিরোজপুর থেকে ভাণ্ডারিয়া আসার পথে অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের খপ্পরে পরে অসুস’ হয়েছে ২জন। …