এনবিএন ডেক্স: দিন মঙ্গলবার সকাল অনুমান ১০টা। নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলা সদর নজিপুর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার উত্তরে খাসপাড়া গ্রাম। পাশের রাস্তা দিয়ে যেতেই চোখে পড়ল পাশলা ফুলের মিলন মেলার এক অপূর্বদৃশ্য। মাঝে মাঝে কচুরি পানার ফুলগুলোও পিছিয়ে নেই। তারাও যেন শাপলা ফুলের সাথে ফুটে সৌন্দর্য বিলিয়ে দেয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। জলাশয়টির আয়তন প্রায় অর্ধশত বিঘা। আগে প্রায় শত বিঘা ছিল। এ শাপলা খাল-বিল ও আবদ্ধ জলাশয়েই জন্মে। এগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় জন্মাতে না পেরে শুধু নওগাঁ জেলায় নয়, সারা দেশ থেকে ক্রমান্বয়ে জাতীয় ফুল শাপলার বিলুপ্তি দ্রুত ঘটছে।
এলাকার শহিদুল ইসলাম, অলক সাহা সহ অনেকেই জানালেন, বর্ষাকালের শুরু থেকে হেমন-কাল পর্যন- এ শাপলা ফুলে মিলন মেলা দেখে আসছি। এরপর এ জলাশয়টি শুকিয়ে গেলে তাতে খরা মওসুমে ইরি-বোরো ধান চাষ হয়। তবে জমির মালিকরা প্রতি বছর তলা থেকে চারিপাশে মাটি দিয়ে ভরাট করে আবাদি জমি বের করায় এ জলাশয়টির আয়তন ত্রমান্বয়ে কমে আসছে। তাদের ধারণা একদিন হয়তো পুরো জলাশয়টি আবাদি জমিতে পরিণত হবে। আর শাপলা জন্মাবে না।
এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি শিক্ষাবিদ নূর আলম খাদেমূল ইসলাম ও উদ্ভিদ বিজ্ঞানী শিক্ষাবিদ ড. আবুল হায়াত ইসমাইল জানান, সারা বিশ্বে প্রায় ৫০ প্রজাতির শাপলা রয়েছে। জাতীয় ফুল শাপলা সাধারণত আমাদের দেশে বদ্ধ অগভীর জলাশয়, খাল-বিল অঞ্চলে জন্মায়। অত্রাঞ্চলে দুই ধরণের শাপলা ফুল দেখা যায়। সাদা ও লাল। স্থানীয় ভাষায় সাদা শাপলাকে হলা বলা হয়। লাল শাপলাকে লাল বা রক্তহলা বা রক্তকমল বলা হয়। এ শাপলা ফুল যখন আবদ্ধ জলাশয়ে অনেকগুলো ফোটে তখন ওই জলাশয়ে এক অপরূপ সৌন্দর্যের সৃষ্টি হয়। আর ফুল থেকে যে ফলে রূপান-রিত হয় তাকে ভ্যাট বলা হয়। এ ভ্যাটের ভিতরে অনেকগুলো ছোট ছোট বীজ থাকে। এগুলো মানুষ উঠিয়ে নিয়ে ভেঙ্গে শুকিয়ে খই ভেজে খেয়ে থাকে। এ খই খুবই সুস্বাদু। এ শাপলার বোটা গ্রামাঞ্চলে অনেক লোকজনের জনপ্রিয় সবজি। এ পাপলা বর্ষা ও শরৎকালে ক্রমান্বয়ে জন্মে ও ফুল ফোটে।
শাপলা ফুলের ক্রমান্বয়ে বিলুপ্তির কারণে অনুসন্ধানে জানা যায়, বিল ও আবদ্ধ জলাশয়গুলো মানুষ শুকিয়ে ফেলে তাতে ইরি-বোরো ধানসহ বিভিন্ন ধরণের ফসল ফলাচ্ছেন। এবাদে আবদ্ধ জলাশয়গুলোতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করায় শাপলা জন্মানোর ক্ষেত্রগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে শাপলা ফুল এখন আর চোখে পড়েনা বললেই চলে। প্রবীণদের অনেকেই জানান, এ জাতীয় ফুল শাপলা এক সময় হয়তো কাগজে-কলমে আর পাঠ্য বইয়েই লিখা থাকবে। দ্র্বত বিলুপ্তির কারণে বাস্তবে দেখা মিলবে না। অভিজ্ঞমহলের মতে, সরকারি এবং বেসরকারি উদ্যোগে আবদ্ধ জলাশয় অথবা দেশের বিভিন্ন লেকগুলোতে শাপলা জন্মানোসহ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা দরকার। #
আরও পড়ুন...
নওগাঁর রাণীনগরে অভিযানে কারেন্ট-রিং জাল জব্দ ॥ জরিমানা আদায়
এনবিএন ডেক্সঃ নওগাঁর রাণীনগরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ কারেন্ট ও রিং জাল দিয়ে …