এনবিএন ডেক্স: সরকারী নিষেধ উপেক্ষা করে নওগাঁ জেলা সদর, উপজেলা শহর ও গ্রাম অঞ্চলে সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনত্মরালে বিভিন্ন নামে কোচিং সেন্টার জমজমাট ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব কোচিং সেন্টার পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রফেসর, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রফেসর, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা চাকরির পাশাপাশি কোচিং সেন্টার গড়ে তুলে অনেক অর্থনৈতিক লাভবান হন। সেজন্য জেলা শহর ও গ্রাম অঞ্চলে কোচিং সেন্টারের রমরমা ব্যবসা চলছে। কোচিং সেন্টারগুলোতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রফেসর, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জড়িত থাকায় স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা কোচিং সেন্টারের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। দু-একজন অভিভাবকের ভিন্ন মত থাকলেও বেশিসংখ্যক ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকরা কলেজ-স্কুলের বাইরে প্রাইভেট কোচিং সেন্টারে শিক্ষা বিসত্মারে ছাত্রছাত্রীদের সফলতার দিকে মত ব্যক্ত করেন। কিন’ সমপ্রতি সরকারের এক প্রজ্ঞাপনে সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রফেসর, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাদের কর্মক্ষেত্র থেকে কোচিং সেন্টারে বেশি সময় ব্যয় করেন- এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের সব উপজেলাতে গড়ে ওঠা কোচিং সেন্টারে সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রফেসর, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জড়িত থাকতে পারবেন না। সরকারের নিষেধ প্রজ্ঞাপনের কোনো তোয়াক্কা না করে কোচিং সেন্টারের পরিচালকরা প্রকাশ্যেই তাদের কোচিং সেন্টারগুলো চালিয়ে যাচ্ছেন। ৮ম শ্রেণী থেকে এসএসসি, এইচএসসি, বিএসসি, বিকমসহ বিভিন্ন চাকরির কোচিং করা হচ্ছে এমন রকমারি বিজ্ঞাপন কাপড়ে লিখে ব্যানার, পোস্টার ও লিফলেট আকারে উপজেলার বিভিন্ন স’ানে বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রচার করা হচ্ছে। অনেকটা প্রতিযোগিতামূলকভাবেই কোচিং সেন্টারের পরিচালকরা কোচিং সেন্টারের শিক্ষা ব্যবস’া, শিক্ষার মান ভালো করার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের কোচিং সেন্টারগুলোতে পাঠদানে আকৃষ্ট করছেন। একটি সূত্র জানায়, এসব কোচিং সেন্টার গড়ে ওঠার কারণে ছাত্রছাত্রীরা স্কুল-কলেজগুলোতে পাঠদানের চেয়ে কোচিং সেন্টারের পাঠদানে বেশি সময় কাটাচ্ছে। এই মহান পেশায় নিয়োজিত শিক্ষকরা অভিনব কায়দায় ছাত্রছাত্রীদের প্রাইভেট ও কোচিং সেন্টারের কারণে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করছে নামকাওয়াসেত্ম। মূলত তারা প্রাইভেট ও কোচিং সেন্টারের প্রতি নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় প্রতি মাসে হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কোচিং সেন্টারগুলো। এ ছাড়া শিক্ষকদের বাড়িও মিনি কোচিং সেন্টারে পরিণত হয়েছে। এ অবস’া চলতে থাকলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শুধুমাত্র রেজিস্ট্রেশন ও পাবলিক পরীক্ষা কেন্দ্রে পরিণত হবে। আর এই অবস’ার অবসান না ঘটলে দ্রম্নত এর বিসত্মার ঘটবে প্রত্যনত্ম এলাকার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও। শিক্ষার অতিরিক্ত ব্যয়ভার বহন করতে না পেরে নিম্ন মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র ঘরের সনত্মানরা লেখাপড়া থেকে ঝরে পড়ছে আর বঞ্চিত হবে শিক্ষার আলো থেকে। শিক্ষাই জাতির মেরম্নদ- এ সেস্নাগানটি শুধু সভা-সমাবেশ ও কাগজেই লিপিবদ্ধ থাকবে বাসত্মবিক ক্ষেত্রে জ্ঞান-বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে মেধা বিকাশের সুযোগ না থাকলে উন্নত জাতি গঠনের সুযোগ থাকবে না বলে সমালোচকদের মতামত।
আরও পড়ুন...
নওগাঁয় শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন বিষয়ক আলোচনা সভা
এন বিএন ডেক্সঃ নওগাঁয় কোভিড-১৯ সময়ে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। …