পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়া উপজেলার নদমূলা শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের চিংগুড়িয়া গ্রামের আঃ হাকিম খন্দকারের ছেলে হত দরিদ্র আব্দুল ওহাব খন্দকার তার জমিতে আলোড়ন ধান চাষ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এলাকায়। ঘুরতে শুরু করেছে হত দরিদ্র কৃষকের জীবনের চাকা । ওহাব খন্দকার জন্মও এক দরিদ্র পরিবারে যার কারণে প্রাথমিক শিক্ষাও শেষ করতে পারেনি তিনি। ক্ষুদা নিবাড়ন এবং জীবন জীবিকা তাগিদে ছোট বেলা থেকে কৃষি সাথে জড়িয়ে পড়েন সে। কৃষিকে পেশা হিসেবে নিতে হবে সে কখনও ভাবেনি এক সময় সে নিজ জমির পাশাপশি অন্যের জমিতে কৃষি কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। কিন’ তার পারিবারিক জীবনের পরিবর্তন হয়নি। এভাবেই সে দুইযুগ পার করে দেয় । এবং পিতা-মাতার ইচ্ছাঅনুযায়ী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ধীরে ধীরে সংসারও বড় হতে থাকে বর্তমানে দুইটি কন্যা সনত্মানেরও পিতা তিনি। মেয়েরা বড় হতে থাকে শত অভাব অনটনের মধ্যেও মেয়েদের লেখা পড়া চালিয়েযান তিনি। কিন’ ভাগ্যের নির্মম পরিহাস কলেজ পড়-য়া বড় মেয়েকে গত বছর সড়ক দূর্ঘটানা কেড়ে নেয় বাসের চাকের পৃষ্ট হয়ে মারা যায় সে। তিনি ভাবেন এভাবে তার সংসার চলতে পারে না এর পরিবর্তন করতে হবে। এবং ঠিক করেন কৃষি কাজ ছাড়াও যখন অন্য কিছুই করতে পারেননা তিনি, কৃষি কাজকেই সমপ্রসারণ করতে হবে। এমতবস্থায় ব্র্যাক শস্যনিবিড় করণ কর্মসূচীর এক কর্মীর সাথে তার পরিচয় হয় তার এবং ব্র্যাক কর্মীর সাথে গ্রামের চাষীদের আলোচনা সভাস’লে উপসি’ত হয়ে ওহাব খন্দকার জানতে পারেন গ্রামের দরিদ্র চাষীদের ফসল উৎপদান বৃদ্ধির জন্য বক ভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। এই বক ভিত্তিক জরিপে ওহাব খন্দকারের নগদে রাখা ১০০শতক জমি বকের আওতায় চারটি মৌসুমে চাষাবাধের জন্য নির্ধারিত হয়। ইতিপূর্বে আমন মৌসুমে ব্রি-ধান ৪৪ চাষাবাধ করে সে প্রায় ৫৫ মন ধান ঘরে তুলেছেন। যা সে ইতি পূর্বে কোন আমন মৌসুমে এর অর্ধেকও ঘরে তুলতে পারেননি।রবি মৌসুমে সে তার জমিতে ভুট্টা চাষ করে। কিন’ দুঃখের বিষয় রবি মৌসুমে বিগত মার্চ মাসে জোয়ারের পানিতে পাবিত হয়ে ভূট্টার ফলন কিছুটা ব্যহত হয়। এরপরেও ৭০মন ভুট্টা ঘরে তুলেছে। এ বছর আউশ মৌসুমে হাইব্রীড আলোড়ন ধান চাষ করে মাত্র ১০০শতক জমিতে প্রায় ৬৫মন ধান উৎপাদিত হয় তার ক্ষেতে।ওহাব খন্দকার তার জমিতে বর্তমানে ব্রি-ধান ৪৯ চাষাবাদ করেছে। তা তাকে আগামীদিনের আশার আলো দেখাচ্ছে। কৃষক ওহাব খন্দকার জানান, তিনি আমন মৌসুমে ব্র্যাক থেকে অফেরৎযোগ্য ৯হাজার টাকা অনুদান সহায়তা পেয়েছে। রবি মৌসুমেও ভুট্টা চাষের জন্য ৭হাজার ৩শত টাকা, আউশ মৌসুমে ৯হাজার ৮শত টাকাসহ সর্বমোট ৩৫ হাজার একশত টাকা অফেতযোগ্য অনুদান সহায়তা পেয়েছেন।যা তার জীবনের গতিপথ পাল্টে দিয়েছেন। তিনি জানান, বর্তমানে তার সংসারে কোন অভাব নেই। ছেলে মেয়েকে পড়া লেখার খরচসহ ঠিকমত বই খাতা কিনে পারছেন তিনি।এ ছাড়াও লাভের টাকা দিয়ে তিনি একটি গাভীও কিনেছেন।
Home / কৃষি সংবাদ / ধান চাষে সাফল্য ভাণ্ডারিয়ায় আলোড়ন ধানচাষ করে কৃষক ওহাব এর জীবনের চাকা ঘুরতে শুরু করেছে
আরও পড়ুন...
নওগাঁর রাণীনগরে অভিযানে কারেন্ট-রিং জাল জব্দ ॥ জরিমানা আদায়
এনবিএন ডেক্সঃ নওগাঁর রাণীনগরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ কারেন্ট ও রিং জাল দিয়ে …