31 Joishtho 1431 বঙ্গাব্দ শনিবার ১৫ জুন ২০২৪
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ »
Home / সারাদেশ / এই পথ কখন হবে গো শেষ…

এই পথ কখন হবে গো শেষ…

এনবিএন ডেক্স: ‘এই পথ যদি না শেষ হয়…’ এমন কথায় মনে হতে পারে সুচিত্রা-উত্তমকে নিয়ে লিখছি। সুচিত্রা-উত্তম একটা ছবিতে এ গানটির সাথে ঠোঁট
মিলিয়েছেন। সিকোয়েন্সটা ছিল এমন : ভালোবাসাবাসির এ পর্যায়ে দু’জনে একটা ভেসপায় যাচ্ছিলেন। সেটা চালাচ্ছিলেন উত্তম কুমার। আর পেছনে বসা ছিলেন সুচিত্রা সেন। বেশ রোমান্টিক না? তখন দু’জনে গাইছিলেন ‘এই পথ যদি না শেষ হয়, তবে কেমন হতো তুমি বলতো। না না তুমিই বলো, না- না তুমি…।’ গানটির আর সব কথা নিশ্চয় অনেকেরই মনে আছে। তবে এই মুহূর্তে আমি তেমন রোমান্টিকে নই। এই গানের কথা মনে হলো অন্য কারণে। যেখানে রোমান্টিকের লেশ মাত্র নেই। কেননা ঈদে ঘরমুখো মানুষের কষ্ট পথে পথে বাসা বেঁধে আছে। আমি সেখানেই যেতে চাচ্ছি। সে কথায় পরে আসব। তবে আজ সুচিত্রা সেনকে নিয়েও লেখার একটা সুযোগ আছে। সেটা হলো-দীর্ঘ ২৭ বছর পর সুচিত্র সেনের পাবনার পৈতৃক বাড়িটা দখলমুক্ত করা গেছে। এই সেদিন সুচিত্রা সেন মারা গেছেন। তিনি বেঁচে থাকতে খবরটা জেনে গেলে শান্তি পেতেন নিঃসন্দেহে। আমরা দেরিতে হলেও কালিমা মুক্ত হলাম। বাঙালি জাতি দখলে বিশ্বাসী নয়। তারপরও আমাদের ঘারে ‘দখল’ নামক অপরাধ চেপে বসে কখনো কখনো। এই বাড়িটি দখল করে ‘ইমাম গাজ্জালী ইনস্টিটিউট’ করা হয়ে ছিল। ইমাম গাজ্জালী নিজেও এ ধরনের ‘অপরাধ’ সমর্থন করতেন বলে জানা নেই। অথচ তারই চিন্তা-চেতনাকে বাস্তবায়নের জন্য এমন অপরাধমূলক কাজটি দীর্ঘ দিন ধরে করে আসা হচ্ছিল। ইমাম গাজ্জালী এটা জানতে পারলে নিশ্চয় দুঃখ পেতেন। আমরা আশা করব, সুচিত্রা সেনের বাড়িটি যথাযথ সংরক্ষণ করা হবে।
এবার ঈদে বাড়ি ফেরার পথের কথায় আসি। রাস্তার যে সব ছবি সংবাদপত্রে ছাপা হচ্ছে তা ‘হরপ্পা-মহেঞ্জাদারো’র ছবি বলে মনে হলেও হতে পারে। এটা এবারই নয়, যুগ যুগ ধরেই তো এমনটা দেখে আসছি। আমার কপাল ভালো গত পনের বছর ঈদ করতে ঢাকার বাইরে যেতে হয় না! এর ব্যাখ্যা না দিয়ে বলব, এতে বেজায় খুশি আমি। যদিও গ্রামীণ পরিবেশে ঈদ আমার খুবই প্রিয়। আমার জন্ম মফস্বল শহরে। আমার ছেলে-মেয়েরও তাই। আমাদের তিন জনেরই জন্ম বগুড়া শহরে। যখন একজনের বয়স ৫, অন্যজনের ৪৫ দিন তখন ওরা বগুড়া ছাড়ে। তারপর ওদের আর বগুড়া যাওয়া হয়নি। যা পনের বছর হয়ে গেল। কিছুদিন পরপরই ওরা বগুড়া যাবার বায়না ধরে। মেয়েটার কারূপল্লীর বাঘের সাথে, বগুড়া প্রেসক্লাবে এবং মহাস্থানের ছবি আছে। আমি ওদের বগুড়া নিয়ে যাবার আশা দিয়ে রেখেছি। আমার আশায় আশায় ওরা হয়তো মনে মনে ভাবে ‘একদিন আমরাও বাবার হাত ধরে বগুড়া যাব।’ আসলে ঈদে ঢাকা ছাড়তে মন চায় না পথের ঝক্কিঝামেলার কারণে। আগাম টিকিট সংগ্রহের বিড়ম্বনা অন্যতম। ফিরতেও একই বিড়ম্বনা। আমার আবার বাসের চেয়ে ট্রেন যাত্রা বেশি ভালো লাগে। ট্রেনের জানালায় গ্রামবাংলার অপরূপ দৃশ্য দেখে মনটা আনন্দে ভরে যায়। সাথে থাকা প্রিয় বই, চা আর সিগারেট ভিন্ন আমেজ সৃষ্টি করে। জানালার বাইরে উদাস দৃষ্টি মেঠো পথের বালকের সাথে মিলন ঘটায়। যান্ত্রিকজীবনে তার লেশ মাত্র নেই। তারপরও লাখ লাখ মানুষ শত ঝক্কিঝামেলা নিয়ে আপনজনদের সাথে উৎসব পালনে ঘরমুখী হন। আমার মনে হয়েছে, ঈদে ঘরমুখো মানুষের জন্য সমস্যা দুটি। এক. যেটা প্রথমেই বলেছি। টিকিট বিড়ম্বনা। দুই. রাস্তা-ঘাটের বেহাল দশা। লক্ষ্য করছি, ঈদ নিকটবর্তী হলেই যোগাযোগমন্ত্রণালয়ের রাস্তা মেরামতের দায়িত্ব বেড়ে যায়। কাজটি যদিও তাদেরই। প্রতি বছরই ঈদের আগে ছাল ওঠা মহাসড়কগুলো মেরামত শুরু হয়। সারা বছর তারা যেন ঘুমায়। মনে হয় ঈদ হঠাৎ করে এসেছে। মন্ত্রী সাহেবও নড়ে-চড়ে বসেন। যখন আমি এই লেখাটি লিখছি, তখন আমার মাথার উপর রাখা টিভি বেহাল রাস্তার খবর শোনাচ্ছে। ছবি দেখাচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ এবং ঢাকা- উত্তর ও দক্ষিণের সড়কগুলোর চেহারা ভাঙা আয়নার মত। এই রাস্তায় বাসে না গিয়ে পায়ে হেঁটে যাওয়াই আরামদায়ক! যদিও আমাদের যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের রাতকে দিন বানিয়ে রাস্তা মেরামতের কাজ মনিটর করে যাচ্ছেন। রাজধানী থেকে ৪০টি রুটে বাস চলাচল করে। এ সড়কগুলো কী পরিপূর্ণভাবে চলাচলের উপযুক্ত? লক্ষ্য করছি, যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের রাস্তা মেরামত করতে করতে তার কাব্যিক মনটা পর্যন্ত কষ্টে জর্জরিত করে ফেলেছেন! আমার জানতে ইচ্ছে করে, এই কাজটি ঈদের ২-৩ মাস আগে কেনো করা হয় না? হয় না এই কারণে যে, তবে তো ঈদের আগে আবার বেহাল হবে। তিন মাসের বেশি তো কার্পেটিং থাকে না।
সেই বেহাল রাস্তা মেরামত করতে যোগাযোগমন্ত্রী সময় বেধে দিয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে কতটুকু মেরামত হবে সেটা ঈশ্বরই ভালো জানেন! তারপরও ওবায়দুল কাদেরকে ধন্যবাদ। তিনি পরিশ্রমী মন্ত্রী। জনগণকে সেবা দিতে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। আর ঈশ্বরের কথা বললাম এই কারণে যে, একা মন্ত্রীর পক্ষে সারাদেশের সড়ক-মহাসড়ক দেখভাল করা সম্ভব না। সড়ক মেরামত কাজে যেমন প্রচুর অর্থ ব্যয় করা হয়, তেমনি এই খাতে দুর্নীতিও কম নয়। আর দুর্নীতিটা তখনই পাকাপোক্ত হয়, যখন কাজের মান ঠিক থাকে না। কাজে ফাঁকি দিয়ে ঠিকাদার যেমন লাভবান হয়, সেই সুযোগে কর্মকর্তারা টু-পাইস কামিয়ে থাকেন। যাকে আমরা বাংলায় বলি ‘ঘুষ’। এখন শুনছি মন্ত্রীর ‘ডেড লাইন’ শেষ হয়ে গেলেও কাজ শেষ হতে আরও সময় লাগবে। তা হলে প্রশ্ন জাগে ঈদের বাকি থাকে আর কত দিন? এখন যদি আগের যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন দায়িত্বে থাকতেন তা হলে কী হতো? সে সময় তাকে বলা হতো-‘কাজ কম, বেশি কথার লোক’। এখন ক্ষমতায় থাকলে হয়তো তাকে আরেকটি ‘আমার কৈফিয়ৎ’ রচনা করতে হতো। পদ্মা সেতু নিয়ে তার লেখা ‘আমার কৈফিয়ৎ’ গ্রন্থটি পল্টনের মোড়ে পুরাতন বইয়ের দোকানগুলোতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা কেনো এই সৈয়দ সাহেবকে যোগাযোগমন্ত্রী বানিয়েছিলেন বুঝে উঠতে পারিনি। সৈয়দ আবুল হোসেনের সময়কাল সামাল দিতে সরকারকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে। খবরে প্রকাশ, একদিকে রাস্তা মেরামত হচ্ছে অন্যদিকে সামান্য বৃষ্টিতে সেই রাস্তা আগের চেহারায় ফিরে যাচ্ছে। যেন ভানুমতির খেল! বেহাল রাস্তার কথা যতো সহজে বর্ণনা করলাম, বাস্তবে কষ্ট অনেক ঢেড়। এক সহকর্মী; যিনি প্রতি ঈদেই বাড়ি যান। তিনি বলছিলেন-বর্ষায় রাস্তা মেরামতের কাজ করলে ঠিকাদারের পোয়া বারো। সেই সাথে ইঞ্জিনিয়ার, একাউনটেন্ট তো আছেনই। কাজ যেমনই হোক, ঘুষ দিলে সব ঠিকঠাক। যেনতেন প্রকারে পিচ ঢালাই দিলেই হলো। বৃষ্টিতে ভেসে গেলে ঠিকাদার কী করবে। যথাযথ কাজ করা হয়নি তার প্রমাণই বা কী। কেননা আকাশ থেকে তো বৃষ্টি আসছেই। এ ছাড়া যানজট তো আছেই। তা সত্ত্বেও একটা ঝকমারি পরিস্থিতিতে ছুটতে হবে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। প্রিয়জনের সানি্নধ্য পেতে তখন মনে হতে পারে বিলম্বের আর শেষ কোথায়! রাস্তার বেহাল দশায় মনের অজান্তেই গাইতে হবে ‘এই পথ কখন হবে গো শেষ…!’
এক চিলতে হাসি
মন তো খারাপ হতেই পারে। বলা হয়, মন থাকলে খারাপ হবেই। মন নেই যার পোড়া কপাল তার। এতএব মন থাকতেই হবে। সেই মন খারাপ হলে করার কিছু থাকে না। এমন কথা ভেবে মনের হাল ছেড়ে দেন অনেকেই। খারাপ মনটাকে আরও খারাপের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। ভালো-মন্দ মিলেই তো মন। তাই বলে খারাপ মনটাকে ভালো রাখার ব্যবস্থা কী নেই? একদল গবেষক মন ভালো রাখার ওষুধ আবিষ্কার করেছেন। তার নাম ‘হাসি’। চোখের জলের যেমন কোনো রং নেই। তেমনি হাসিরও কোনো রং নেই। সেই রংহীন হাসি দিয়ে মনকে ভাসিয়ে নেয়া যায়। এ জন্য একগাল হাসির দরকার নেই। এক চিলতে হাসি হলেই হলো। শত মন খারাপেও এক চিলতে হাসি সব দুঃখ ভুলিয়ে দিতে পারে। শুধু সিনেমায় নয়, বাস্তব জীবনেও এক চিলতে হাসি হাজারো কথা বলে। আনন্দে ভাসিয়ে দেয়। গবেষকরা বলছেন, শুধু মন নয়, শরীরকে পর্যন্ত সুস্থ রাখতে সাহায্য করে এক চিলতে হাসি। আসলেই তো তাই। মন ভালো তো সব ভালো।
এছাড়া এক চিলতে হাসি রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। হতাশা থেকে বাঁচায়। ঈদ উৎসবও তো আমাদের উপর নানা ভাবে ‘চাপ’ প্রয়োগ করে। সেই ‘চাপে’ মনের মধ্যে ‘চাপাচাপির’ সৃষ্টি হয়। মনটা তখন হারিয়ে যেতে চায় ‘চাপের’ কাছে। এ ক্ষেত্রেও কিন্তু এক চিলতে হাসি আমাদের হাস্যরসে ভরিয়ে দিতে পারে। সেই হাসির পথ ধরে ঈদ উৎসবকে আনন্দময় করতে পারি। এতএব, আসুন এক চিলতে হাসিকে ভালোবাসি।

আরও পড়ুন...

নওগাঁর পোরশায় ডাকাতির প্রস্ততিকালে ৪ডাকাত আটক

এনবিএন ডেক্সঃ নওগাঁর পোরশায় রাস্তায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৪ ডাকাত সদস্যকে আটক করেছেন স্থানীয়রা। আটককৃত ডাকাতরা …