31 Ashin 1427 বঙ্গাব্দ শুক্রবার ১৬ অক্টোবর ২০২০
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ »
Home / সারাদেশ / বরিশাল / প্রতারনার ফাঁদে পিরোজপুরের নাজিরপুরের শত শত মানুষ দেশী শ্রমিক বিদেশে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার..!

প্রতারনার ফাঁদে পিরোজপুরের নাজিরপুরের শত শত মানুষ দেশী শ্রমিক বিদেশে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার..!

পিরোজপুর প্রতিনিধিঃ পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার শ শ মানুষ স্থানীয় আদম ব্যবসায়ী ওয়াছিকুর ওরফে নাছিরের প্রতারণার ফাঁদে পরে সর্বস্ব হারিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে নাজিরপুর উপজেলার মাহ্‌মুদ কান্দা গ্রামের মোসত্মফা হাওলাদার এবং পুত্র ওয়াছিকুর ওরফে নাছির এলাকা সহ এলাকার বাইরের বহুলোককে বিদেশ ভিভুইয়ের স্বপ্ন দেখিয়ে সর্বহারা করেছে। দেশী কম শিড়্গিত শ্রমিকদের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারের ভিসা দিয়ে গলাকাটা পাসপোর্টের মাধ্যমে প্রতারনার জালে আটকাচ্ছে স্থানীয় বেকার যুবক যুবতিদের। এ সংক্রানত্ম লিখিত অভিযোগ পিরোজপুর পুলিশ সুপার এবং নাজিরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং সাংবাদিকদের কাছে পৌছালে সরেজমিনে নাজিরপুর উপজেলার মাটিবাংগা মাহমুদ কান্দা গ্রামে গিয়ে দেখা যায় টাইলস বসানো রাজ প্রসাদসম বাড়ি যা গড়ে উঠেছে মাত্র দুই বছর আগে। বাড়ির সামনেই রয়েছে চাঁদ তারা খচিত কাঁচ বসানো সুরম্য পাঁচিল আর গেট, বাড়ি থেকে একটু অদুরে গড়ে উঠেছে নতুন প্রকল্প ফার্ম হাউজ। একাধিক এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে কিছুদিন আগেও একচালা টিনের সুপরি ঘর আর একটি মুদির দোকানই ছিল তাদের সম্বল। ওয়াছিকুর নারী পাচার আর আদম ব্যবসায় সম্পৃক্ত হওয়ার পর অল্পসময়ের ব্যবধানে কোটিপতি বনে গেছে। শুধু এলাকার প্রতিবেশী নয় আপন চাচাত ভাই ফুফাত ভাইকেও ভুয়া ইঞ্জিনিয়ারিং ভিসায় বিদেশে নিয়ে প্রতারনা করেছে ওয়াছিকুর। ১৫ বছর বয়স পূর্ন হয় নাই এলাকার এমন তরুনকেও ইঞ্জিনিয়ারিং ভিসায় বিদেশে নিয়ে প্রতারিত করে দেশে পাঠিয়েছে সে।প্রতারিত ফরহাদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আমি পড়াশুনা খুব ভাল জানিনা ইংলিশ আরবী পড়তে পারিনা। ওয়াছিকুরের বাবার ব্যাংক এ্যাকাউন্ট ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা জমা দিয়ে ওমানের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাই। সেখানে গিয়ে আমাকে যখন বিল্ডিংয়ের ডিজাইন করতে বলা হয় তখন আমি বুঝতে পারি আমি প্রতারিত হয়েছি। প্রতারনার স্বীকার বেলায়েত হোসেন বলেন, দুই লাখ ৯০ হাজার টাকার বিনিময়ে ওমানে ইঞ্জিনিয়ারিং ভিসায় পাড়ি জমিয়েছিলাম। অবৈধ ভাবে বিদেশে থাকার কষ্ট বলে প্রকাশ করা যাবেনা। রাতের আধারে টিনের কৌটায় পরে থাক পরিত্যক্ত খাবার খেয়ে বেচে থেকেছি। চোরাগুপ্তা লেবার দিয়ে যা আর করতাম তা নিয়ে যেত ওয়াছিকুর। এ ছাড়াও সে নানা প্রলোভন দেখিয়ে বউসাজিয়ে ওই খানে নারীদের নিয়ে সে অনৈতিক ব্যবসা করে। প্রতারিত আর এক নারী শিউলী। নাজিরপুর বাঘাজোড়া ইউনিয়নের শিউলীর কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা নিয়েছিল ওয়াছিকুর। বিমানে ওঠানোর আগ মুহুর্তে শিউলী বুঝতে পারে মিথ্যে বউ সাজিয়ে তাকে প্রতারনার ফাঁদে ফেলা হয়েছে। সেখান থেকে ফিরে টাকা ফিরে পাবার আশায় ঘুরে ফিরছেন কিন’ দুই চোখে কান্না ছাড়া তার আর অবশিষ্ট কোন পথ খোলা নাই। কারন ওয়াছিকুর আর তার পরিবার তাকে নতুন করে নিয়ে যাবার কথা বলে। কিন’ টাকা ফেরৎ দেয় না। শিউলীর মা সুফিয়া বেগম বলেন, জমি বিক্রি টাকা দিয়েছিলাম মেয়ে বিদেশ গেলে সংসারে শানিত্ম আসবে ভেবে কিন’ জমি তো গেছেই। এখন ছেলেরা রিক্সা চালিয়ে সংসার চালায়। এই প্রতারক নিজ গ্রামেই প্রতারিত করেছেন বহুলোককে। জানা গেছে পার্শবর্তী জেলা গোপালগঞ্জের বহুলোক তার প্রতারনার ফাঁদে পড়ে সর্বম্ব খুইয়েছে। এ প্রতারনার ব্যবসা দেশে থেকে চালিয়ে যাচ্ছে তার বাবা মোসত্মফা হাওলাদার এবং ফুফা সেলিম। মুলত এদের ব্যাংক একাউন্টে জমা পরে মুলটাকা। এলাকাবাসী জানায় ওয়াছিকুর পঞ্চম শ্রেণী পাস। এ পর্যনত্ম বিয়ে করেছে ৩টি। প্রথম বউকে বাপের বাড়ি ফেলে রেখেছেন। ২য় বউ ওমানে তার নিজের কাছে আছে। সর্বশেষ গত বছর ঢাকার মেয়ে ইতিকে বিয়ে করে নিয়ে গেছে ওমানে । ওয়াছিকুরের মা হাজেরা বেগম বলেন একবছর আগে বাড়ি এসে ঢাকার রামপুর বনশ্রী এলাকাকা ইতি নামের এক মেয়েকে বিয়ে করেছে। তবে অন্য দুই বউয়ের ব্যপারে কোন মনত্মব্য করতে চাননি।
সরেজমিনে প্রতারিতদের বেশ কয়েকটি জাল পাসপোর্ট দেখা যায়। যার বেশির ভাগই বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারে নামে করা পাচপোর্ট। এ বিষয়ে ওয়াছিকুরের আপন খালাত ভাই হাজী আব্দুল মুকিত বলেণ, আমার নাতির নাম আনিসুর কিন’ ইঞ্জিনিয়ার আব্দুলস্নাহর পাসপোর্ট সে ওমানে গিয়ে পলিয়ে আসে। কাউকে কোন কিছু না জানিয়ে সে এই প্রতারনার ফাঁদ পেতেছে। আমরা সবাই চাই বাংলাদেশ সরকার এ প্রতারকদের শাসিত্মর ব্যবস্থা করবে।এদিকে ওয়াসিকে বাড়িতে গেলে তারা ভেতর থেকে এ প্রতিবেদকে ভিতরে প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে। পরে বসতে দিয়ে ওয়াছিকুরের মা হাজেরা বেগমবলেন আপন আত্মীয় স্বজনরাই বেশি বদনাম করছে, বাইরের লোকদের কথা আর কি বলব। আমার ছেলে বহু লোক বাইরে নেয়। সবার টা সঠিক হয় না। ধানের মধ্যে যেমন চিটা থাকে এটাও তেমন। ২টা ঠিক হলে ১টা ঠিক হয়না। দোষ তো তাদেরই যারা আমার ছেলের কথায় বিশ্বাস করে জমিজমা বিক্রি করে টাকা দেয়। মাহমুদ কান্দা গ্রামের বিদেশের সপ্নে জমিজমা খুইয়ে এখন সর্বহারা। আর অন্যদিকে কোটি টাকার বাড়ি আর দেশে বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলছে ওয়াছিকুর।
এব্যাপারে নাজিরপুর থানার তদনত্ম কর্মকর্তা এস আই আব্দুল গাফ্‌ফার মোল্লা বলেন, ঘটনার তদনত্ম চলছে সত্যাতারও প্রমান মিলছে। আসা করি খুব শিঘ্রই এ বিষয়ে ব্যাবস্থা নিতে পারব।

আরও পড়ুন...

কাউখালীতে এইডস ও নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন বিষয়ক এডভোকেসী সভা

পিরোজপুর প্রতিনিধি: মঙ্গলবার জাতীয় এইডস -এসটিডি কর্মসূচীর বাসত্মবায়নে কাউখালী স্বাস্থ্য কমেপ্লক্সের সভা কক্ষে এইডস ও …